ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহুর হোটেলের সামনে ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ২১:০৩

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সফররত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান করা হোটেলের সামনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী হোটেলের লবিতে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

গত সোমবার (২৭ জুলাই) জর্জটাউনের ফোর সিজনস হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় নেতানিয়াহু হোটেলের একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী লবিতে প্রবেশ করে তিনি যেখানে অবস্থান করছিলেন সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তারক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের হোটেল থেকে বের করে দেন। বের করে দেওয়ার সময় তারা ‘বিবি, বিবি, তুমি লুকাতে পারো না। তুমি জাতিগত নিধন চালাচ্ছ’ স্লোগান দেন।

নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। সফরকালে তিনি প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে অংশ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি তার জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকের সূচি রয়েছে।

হোটেলের ঘটনার পর ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সড়কে আরও বড় পরিসরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শত শত বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে হোয়াইট হাউস ও অন্যান্য সরকারি ভবনের দিকে মিছিল করেন। এ সময় তারা ড্রাম ও বালতি বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেরও তীব্র সমালোচনা করেন তারা।

এক বিক্ষোভকারী বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী এবং তার স্থান আইসিসির কারাগারে। তিনি অভিযোগ করেন, করদাতাদের অর্থ দিয়ে এমন একজন নেতাকে সুরক্ষা দেওয়া উচিত নয়।

আরেক বিক্ষোভকারী মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে নেতানিয়াহুকে আদালতের কাছে হস্তান্তর করা উচিত, যাতে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত জাতিগত নিধনের অভিযোগে তার বিচার করা যায়।

বিক্ষোভ চলাকালে পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিল। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধযন্ত্র বন্ধ করো’ এবং ‘ওয়াশিংটনের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ফাঁস করো’ লেখা ব্যানারও প্রদর্শন করেন।

 
ইত্তেফাক/এসএ