জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কোনো সরকারই শেষ সরকার নয়। অতীতে যাওয়ার খুব বেশি প্রয়োজন নেই, মাত্র দুই বছর আগের ঘটনার দিকে তাকালেই সবাই শিক্ষা পেতে পারে।’
হবিগঞ্জে এনসিপির বহুল আলোচিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অতর্কিত হামলায় চোখের দৃষ্টি হারাতে বসা কিশোর আলিফ চৌধুরীকে দেখতে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান জামায়াত প্রধান। সেখানে চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি আহত আলিফের চিকিৎসাসংক্রান্ত খোঁজখবর নেন।
একই সাথে ভুক্তভোগী আলিফ ও তার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ দোয়া করেন। উল্লেখ্য, আহত আলিফ চৌধুরী ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার একজন সক্রিয় সংগঠক এবং স্থানীয় হোমল্যান্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার হামলায় গুরুতর আহত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় আনা হয় এবং বৃহস্পতিবার সকালে তার বাঁ চোখে একটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
হাসপাতাল চত্বর থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর আবার কাউকে নতুন করে চোখ হারাতে হবে—এমন নিষ্ঠুর পরিস্থিতি কারও কাম্য ছিল না। তিনি অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ নতুন করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সন্ত্রাস বা দ্বিতীয় কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান বরদাশত করবে না।
আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত প্রধান বলেন, কারও রাজনৈতিক বক্তব্য পছন্দ না হলে বক্তব্যের মাধ্যমেই তার রাজনৈতিক জবাব দেওয়া উচিত, অথবা অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু কারও নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার বিন্দুমাত্র অধিকার নেই। সরকার যদি নিজেই আইনের সঠিক রক্ষক না হয়ে উল্টো ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে, তবে সমাজ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও এনসিপির কর্মসূচিতে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত কেন এবং কোন উদ্দেশ্যে বাধা প্রদান করা হলো?
এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে ফোন চুরির দায়ের করা অভিযোগকে হাস্যকর উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির বানোয়াট মামলা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা সেই পুরোনো ব্যবস্থা থেকেই সবক নিয়েছেন এবং নিজেদের ভুক্তভোগী হওয়ার পুরোনো ঝাল এখন সাধারণ জনগণের ওপর মিটাচ্ছেন।’ তিনি আশঙ্কাপ্রকাশ করে বলেন, চোখের দৃষ্টি হারানো আলিফের প্রকৃত হামলাকারীদের বিচার না করে বরং হয়রানি করতে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়া এই পাল্টা ও মিথ্যা মামলার আসামিদের ওপরই হয়তো পুলিশি অ্যাকশন শুরু হয়ে যাবে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় জামায়াত আমিরের সাথে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শেরেবাংলা নগর উত্তর থানার আমির আবদুল আউয়াল আজম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের অন্যতম নেতা হাসান আল বান্না, এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

