একজন মুমিনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নবীদের আদর্শ অনুসরণ দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাদের জীবন থেকে এমন বহু শিক্ষা পাওয়া যায়, যা ঈমানদারদের সঠিক পথের দিশা দেয়। এ প্রতিবেদনে নবীদের জীবন থেকে অর্জিত পাঁচটি মূল্যবান শিক্ষা তুলে ধরা হলো, যা মুমিনের জীবনে প্রেরণার উৎস হতে পারে।
১. আদম (আ.)-এর তওবা
তওবা একজন বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্যে নিয়ে যায়। আল্লাহর রহমতের দরজা বান্দার জন্য সব সময় খোলা। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘অতঃপর আদম তাঁর রবের কাছ থেকে কিছু বাক্য শিখে নিলেন। তখন আল্লাহ তাঁর তওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (সুরা বাকারা: ৩৭)
২. নুহ (আ.)-এর সত্যের দাওয়াত
মানুষ সত্য গ্রহণ করুক বা না করুক, দাওয়াতের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে অবিচলভাবে। দ্বীনের পথে যেকোনো প্রতিকূলতায় ধৈর্য ধারণ করাই ইমানদারের আসল পরিচয়। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আমি তো নুহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছিলাম এবং সে তাদের মধ্যে পঞ্চাশ কম হাজার বছর অবস্থান করেছিল। অতঃপর প্লাবন তাদের গ্রাস করে। কারণ তারা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী।’ (সুরা আনকাবুত: ১৪)
৩. ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগ
আল্লাহর সন্তুষ্টি ও হুকুম পালনের জন্য বান্দা যা কিছু ত্যাগ করে, মহান আল্লাহ তাকে তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান দান করেন। পবিত্র কোরআনে ইবরাহিম (আ.)-কে সম্বোধন করে এসেছে, ‘তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয়ই আমি সৎকর্মশীলদের এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি।’ (সুরা সাফফাত: ১০৫)
৪. ইয়াকুব (আ.)-এর তাওয়াক্কুল
মুমিন কখনো আশাহত হন না। চরম বিপদেও সবর ও তাওয়াক্কুলই মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ইয়াকুব (আ.) তাঁর সন্তানদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘হে আমার ছেলেরা, তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের খোঁজখবর নাও। আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইয়ো না, কেননা কাফির সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।’ (সুরা ইউসুফ: ৮৭)
৫. আইয়ুব (আ.)-এর ধৈর্য
শারীরিক অসুস্থতা, দুঃখ-কষ্ট কিংবা যেকোনো সংকটে সরাসরি আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানাতে হবে। বিপদের সময় আইয়ুব (আ.) বিচলিত না হয়ে দোয়া করেছিলেন, ‘নিশ্চয়ই আমাকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করেছে, আর আপনিই তো সর্বাধিক দয়ালু।’ (সুরা আম্বিয়া: ৮৩)

