হকিতে প্রাণের উচ্ছ্বাস

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৭

দুপুরের গরমে ঘেমে ভিজে যাচ্ছেন সাংবাদিকরা। তার পরও এতটুকু ক্লান্তি নেই। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের ভিড়। ক্যামেরাগুলো ছুটছে জাতীয় হকি দলের অনুশীলনে। তপ্ত দুপুরে নীল টার্ফে ৩৫ জনের বেশি খেলোয়াড় অনুশীলনে। কিন্তু ক্যামেরার লেন্স দুজনের দিকে। রাসেল মাহমুদ জিমি এবং জার্মানি কোচ গেহার্ড পিটারের দিকে। 

২০১৬ সালের পর পিটার আবার বাংলাদেশে ফিরেছেন। জাতীয় হকি দলের হেড কোচ হয়ে তিনি দল নিয়ে এশিয়ান গেমসে খেলতে যাবেন। তিনি তার প্রস্তুতির কথা কয়েক মিনিটের মধ্যে জানিয়ে দিলেন সংবাদমাধ্যমকে। এর পরই লম্বা সময় ধরে কথা চলল রাসেল মাহমুদ জিমির সঙ্গে। ১৮ মাস পর জাতীয় দলে ফিরেছেন জিমি। মোমিনুল হক সাঈদ সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন জিমিকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর হকি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি জিমিকে একটা অজুহাত দেখিয়ে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। এবার নতুন অ্যাডহক কমিটি এসেই যোগ্যদের জন্য জাতীয় দলের দরজা খুলে দিয়েছে সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান সাজেদ আদেল, আরিফুল হক প্রিন্স এবং মাহবুব হারুন। 

গতকাল দুপুরে সাজেদ আদেল বললেন, 'খেলাই তো হয়নি। আমরা কার পারফরম্যান্স যাচাই-বাছাই করব। আগের পারফরম্যান্স অনুযায়ী খেলোয়াড় ডাকা হয়েছে। এখন যারা ক্যাম্পে ভালো করতে পারবেন তারাই থাকবেন, অন্যরা বিদায় নেবেন। এটাই হওয়া উচিত।' জিমি, মিমো, নাইমরাও ডাক পেয়েছেন। এখন তাদের প্রমাণ করার পালা। সামনেই ছিলেন মাহবুব হারুন।

জাতীয় দলের অনুশীলন যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এতটা উচ্ছ্বাস অনেক দিন দেখা যায়নি। বিশেষ করে রাসেল মাহমুদ জিমিকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর হকিতে ছিল থমথমে পরিবেশ। কেউ কথা বলতে সাহস পেতেন না। সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানের রুমেও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। খেলোয়াড়রা অপমাণিত হওয়াটা মেনে নিতে পারেন না। জাতীয় দল থেকে কেন বাদ দেওয়া হলো, সেটি নিয়ে প্রশ্ন করায় উত্তরদাতা কর্মকর্তা আগুনে রূপ নেয়।

রেজাউল করিম বাবু, জাতীয় দলের খেলোয়াড়। এবারের ক্যাম্প নিয়ে বললেন, 'নতুন কমিটি একটা আইন বানিয়েছিল-৩০ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ জাতীয় দলে খেলতে পারবে না। এটা পৃথিবীর কোথাও নেই। যদি পারফরম্যান্স খারাপ বলে বাদ দেওয়া হতো, সেটা একটা কথা। উনি (রাসেল মাহমুদ জিমি) ভালো করতে পারেননি তাই বাদ। আমরা ভয়ে থাকতাম। কেউ কথা বলতে পারত না।' 

বাবু বলেন, 'জিমি আসায় আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। জিমি চারটা এশিয়ান গেমস খেলেছে। একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। এরকম একজন খেলোয়াড় যদি দলে থাকেন, তাহলে সবার মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা কাজ করবে। জিমি ভাইয়ের তুলনা হয় না।'

হকির কর্মকর্তার অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার জাতীয় দলের নাইম। তিনিও এক বছর ধরে ক্যাম্পে নেই। আবার ফিরেছেন। কাল অনুশীলনে নামার আগে বললেন, 'জাতীয় দলের ক্যাম্পের অন্যান্য খেলোয়াড়ের দিকে তাকিয়ে দেখেন, সবাই খুশি। আগে কেউ মুখ খুলতে পারত না। কথা বলতে গেলেই বিপদ। এখন তাদের মন ভালো। জিমির সঙ্গে যা হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জিমিকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অন্যরা ভয়ে থাকত। আসলে কি প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের সম্মানের সঙ্গে বিদায় হওয়া উচিত। পিন্টু, রানা, তাপস সম্মান পাননিনি।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ