গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে জলাতঙ্কের (অ্যান্টি র্যাবিস) ভ্যাকসিন না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ঘটনায় প্রথমে সংশ্লিষ্ট এক মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টকে বরখাস্তের নির্দেশ দিলেও পরে রোগীকে ভ্যাকসিন কেনার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন তিনি।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হঠাৎ করেই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে তিনি জরুরি বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পরিদর্শনের সময় কুকুরে কামড়ানো এক রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভ্যাকসিন মজুত থাকা সত্ত্বেও তাকে অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি। অভিযোগ শুনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদার রহমান আকন্দের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং অভিযুক্ত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। এরপরও যদি রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদার রহমান আকন্দ জানান, ঘটনাটির ভিন্ন প্রেক্ষাপট ছিল। তার ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুকুরে কামড়ানো ওই রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন। অফিস চলাকালে হাসপাতাল থেকে বিনা মূল্যে অ্যান্টি র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হলেও রোগী আসেন অফিস শেষে। পরদিন শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এজন্য রোগীকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে আনলে হাসপাতালে সেটি প্রয়োগ করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি মন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়। পরিবর্তে রোগী যে ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনেছেন, সেই অর্থ তাকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পরে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হেদায়েতুল ইসলাম রোগীকে ওই অর্থ পরিশোধ করেন।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্থানীয় দুটি ক্লিনিক ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে দেখেন। পরে তিনি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

