হকি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক গতকাল মওলানা ভাসানি হকি স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন জাতীয় দলের প্রস্তুতি দেখতে। ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ জনের প্রাথমিক দলের খেলোয়াড়রা কড়া রোদের নিচে অনুশীলন করছিলেন। সামনে এশিয়ান গেমস। পরিকল্পনা রয়েছে আসছে সেপ্টেম্বরে জাপানে এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে ইউরোপে অনুশীলন ক্যাম্প করবেন খেলোয়াড়রা। কেমন চলছে জার্মানি কোচ গেমার্ড পিটারে অধীনে হকির অনুশীলন।
সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক মাঠে গিয়ে কোচের সঙ্গে কথা বললেন। দলের কর্মকর্তারা যারা রয়েছেন; সাবেক খেলোয়াড়, তারাও ইশতিয়াকের সঙ্গে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন। ইশতিয়াক সাদেকের আগ্রহ কীভাবে কী করার যায়। ইশতিয়াক সাদেক হকির দায়িত্বে নতুন হলেও তিনি প্রয়াত আব্দুস সাদেকের ছেলে। বাবার হাত ধরে হকিতে একেবারে পুরোনো। 'আমি অনেকের খেলাই দেখেছি লাইক জুম্মন লুসাই, তিশা, কাঞ্চন, লুলু, অনেকের খেলা দেখেছি।' এসব থেকেই হকির জন্য ভেতর থেকে কিছু করার টান অনুভব করেন। 'বিদেশি কোচ এনেছি। আগেও ছিল বিদেশি কোচ। খেলোয়াড়দের জন্য সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো যায় আমরা চেষ্টা করছি।'
খেলোয়াড়দের মান উন্নয়ন এবং তাদের আর্থিক বিষয়টা ভাবনায় রেখে ইশতিয়াক সাদেক পরিকল্পনা করছেন ইউরোপে যেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য দরজাটা সব সময় খোলা থাকে। সেই সুযোগটা কখনো হারাতে চান না। তিনি বলেন, 'আমাদের খেলোয়াড়রা ইউরোপে দিকে খেলে। এটা একটা ভালো দিক। ভবিষ্যতে যেন চল্লিশ থেকে পঞ্চশ জন খেলোয়াড় বছর জুড়ে নিয়মিত ইউরোপে খেলতে পারে সেটাও আমাদের প্ল্যানের মধ্যে রয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আমাদের খেলোয়াড়রা যদি ইউরোপে ম্যাচ খেলে অনেক উন্নতি করতে পারবে। কারণ দেশে আমি দেখেছি, লিগটা নিয়মিত হয় না। এটা নিয়েও আমাদের ভাবনা রয়েছে। আর খেলোয়াড়দের জন্য যত ধরনের সুবিধা বাড়ানো যায় আমরা চেষ্টা করছি।'
ইশতিয়াক সাদেকের নেতৃত্বে হকি ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি আসার পরে হকিতে যেন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। হকি খেলোয়াড়রা দমবন্ধ করা পরিস্থিতির মধ্যে কাটাচ্ছিলেন। কী বললে কী হয়, শাস্তি নেমে আসবে-তা নিয়ে আতঙ্ক কাজ করত। এখন খেলোয়াড়রাই বলছেন, তারা খুব ভালো অনুভব করছেন। সবাই হাসিখুশি রয়েছেন। এর পেছনে ইশতিয়াক সাদেকের সঙ্গে কাজ করছেন আরিফুল হক প্রিন্সরা। সবাই মিলে জাতীয় দলের ভালো ভালো খেলোয়াড়কে আবার ক্যাম্পে ফিরিয়ে এনেছেন। যোগ্যতা দিয়ে নিজের জায়গা করার সুযোগ করে দিয়েছেন।
খেলোয়াড়দের লিগ নিয়ে সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, তিনি কাজ করছেন। ইশতিয়াক সাদেক বলেন, 'এখন ন্যাশনাল টিম, টিমের ক্যাম্প সবই চলবে। এর মধ্যেও লিগ ফেরানোটা ভেরি ইনপর্টেন্ট। পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে একটা কমিটি গঠন করে দেব। আমার টার্গেট সেপ্টেম্বরের গুরুতেই ফার্স্ট ডিভিশন লিগটা শুরু করা।'

