ফ্রান্সে দাবানলে বেরিয়ে এল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শত শত গোলাবারুদ

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩২

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দোর কাছে ভয়াবহ দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত লে পোর্জ গ্রামে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রায় ৪০০টি গোলা ও বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, আগুনের তাপে এসব বিস্ফোরক সক্রিয় হয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে।

ফ্রান্সের লে পোর্গ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ডিমাইনিং অভিযান শেষে সোমবার (৩ আগস্ট) গ্রামটির সব বাসিন্দা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।

দাবানলের শুরুর দিকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে ধারণা করা হয়েছিল, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে এমনটি ঘটছে। তবে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের এক কমান্ডার জানিয়েছেন, বিস্ফোরণগুলোর পেছনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ফেলে যাওয়া গোলাবারুদগুলো থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ইনফোকে লে পোরজ গ্রামের মেয়র মার্শাল জানিনেত্তি জানান, দাবানলের দ্বিতীয় রাতে ১০০ টিরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তিনি বলেন, শব্দগুলো ছিল ‘যুদ্ধের সময়ের মতো’।

সোমবার ফ্রান্সের লে পোর্জে দাবানলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া নিজেদের বাড়ি পরিদর্শন করছেন এক মা ও ছেলে।

দাবানলের পর শুরু হওয়া মাইন অপসারণ ও নিরাপত্তা অভিযান এখন অনেকটাই শেষ হয়েছে। ফলে অধিকাংশ বাসিন্দা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পেরেছেন। তবে কিছু এলাকা এখনো সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। আগুনে ওই এলাকায় ১৮০ টিরও বেশি বাড়ি পুড়ে ধ্বংস হয়েছে।

মেয়র জানিনেত্তি বলেন, তাদের পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে মাটির নিচে গোলাবারুদের গুদাম ছিল, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে কিছুই জানত না। দাবানলের তাপে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়। তিনি জানান, বিস্ফোরণের সময় গোলাগুলো বিভিন্ন দিকে ছিটকে পড়ে। এমনকি একটি গোলা একটি বাড়ির ভেতর দিয়েও চলে যায়।

সোমবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেয়র জানান, সমুদ্রসৈকত, একটি ক্যাম্পসাইট এবং লা জেনি গ্রামে প্রবেশে এখনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ঐতিহাসিক অস্ত্রগুলোর মধ্যে জার্মান ও ফরাসি উভয় পক্ষের ব্যবহৃত গোলাবারুদ ছিল। এগুলোর মধ্যে মর্টার শেল ও ট্যাংকবিধ্বংসী গোলাও রয়েছে।

এদিকে, প্রায় ১০ দিন ধরে তাণ্ডব চালানোর পর জিরন্দ অঞ্চলের ভয়াবহ দাবানল এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সোমবার লে পোরজের বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে নিজেদের সম্পদ খুঁজতে দেখা গেছে।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু দাবানল মোকাবিলায় নিয়োজিত দমকলকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘নজিরবিহীন এই সংকটের মুখে ফ্রান্স দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।’ তিনি জানান, জিরন্দ অঞ্চলে আগুন মোকাবিলার কার্যক্রম এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং সরিয়ে নেওয়া মানুষ ধীরে ধীরে নিজেদের বাড়িতে ফিরছেন।

গত দুই সপ্তাহে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। দুই দেশ মিলিয়ে ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সবচেয়ে বড় বন দাবানলগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএস