ভারতীয়রা বিশাল ক্ষতির মুখে: শশী থারুর

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৭

ভারতীয়রা স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের সেবা নিয়ে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে বলে দাবি করেছেন দেশটির কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুর। বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনেকে ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ আখ্যা দিয়ে নরেন্দ্র মোদির কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত এক কলামে তিনি অভিযোগ করেন যে এই আইনের মাধ্যমে স্বাধীন কণ্ঠগুলোকে চেপে ধরতে রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন করে লেখার চেষ্টা চলছে। ইন্ডিয়া নিউজের মোহাম্মদ অসীমের সম্পাদনায় প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে এই সংবাদের বিশদ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রস্তাবিত এই আইনে কোনো সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, সমর্পণ বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে তাদের বৈদেশিক অনুদান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে ‘নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে কোনো উপাসনালয় এর আওতায় পড়লে তার ধর্মীয় চরিত্র বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। থারুর জানান যে সরকারের এমন নীতি ও কঠিন নিয়মের কারণে বিদেশি তহবিল ৮৭ শতাংশ কমে গেছে, যার ফলে হাজার হাজার সামাজিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে বসেছে।

কেরালার তিরুঅনন্তপুরমের এই সংসদ সদস্য বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে নতুন নিয়মে অবকাঠামো ও জমি বাজেয়াপ্ত করার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে এক শতকের বেশি সময় ধরে সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরম অস্থিরতার মুখে ফেলবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে একটি সচল দাতব্য হাসপাতাল সরকারের দখলে চলে যেতে পারে, যার চূড়ান্ত শিকার হবে সেবা নিতে আসা সাধারণ ভারতীয়রা।

কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা প্রস্তাবিত বিলটিকে গণতন্ত্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে সংসদে একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ার জন্য সব বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২০টি সংস্থা প্রায় ৫৫ হাজার ৭৪১ কোটি রুপি বিদেশি অনুদান পেয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে বর্তমানে ১৪ হাজার ৪৪৯টি সক্রিয় এফসিআরএ সনদ রয়েছে, অন্যদিকে ২২ হাজার ৪৯৮টির নিবন্ধন বাতিল এবং ১৫ হাজার ২১২টির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

ইত্তেফাক/টিএইচ