ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অপমান বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা হত্যা ও দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামি। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ চিঠি দিলেও ভারত এখনো কোনো জবাব দেয়নি।
তার দাবি, শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত পারস্পরিক আস্থার পরিপন্থী আচরণ করছে এবং এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া ভারতের নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পিত কাজ।
ড্যাবের কার্যক্রমের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের সময়ও সংগঠনটি চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। এ কারণে অনেক চিকিৎসককে বরখাস্ত, পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত এবং দুর্গম এলাকায় বদলির মতো হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, করোনা, ডেঙ্গু ও হামের মতো দুর্যোগে ড্যাব বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তৎকালীন সরকার তা বাস্তবায়ন করতে দেয়নি বলেও দাবি করেন।
ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেড় হাজারের বেশি তরুণ-শিক্ষার্থী প্রাণ দিয়েছেন। সেই ঘটনার বর্ষপূর্তিতে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া শহীদদের প্রতি অসম্মান।
দেশের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করছে। ডেঙ্গু পরীক্ষায় বিনামূল্যে সেবা এবং হাম প্রতিরোধে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ড্যাবের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. শাকিলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন।

