পূর্ব জেরুজালেমে নতুন করে ২৩০০ বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা ইসরায়েলের

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২১

অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে অবৈধ বসতি ‘গিলো’ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বসতিতে আরও ২ হাজার ৩০০টি নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জেরুসালেমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করা ইসরায়েলি অলাভজনক সংস্থা ইর আমিমের বরাতে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

ইর আমিম সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই প্রকল্প কার্যকর হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম থেকে পূর্ব জেরুসালেম আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সংস্থাটির মতে, ইসরায়েলের ‘অনুপস্থিত সম্পত্তি আইন’-এর অধীনে বাজেয়াপ্ত করা ফিলিস্তিনি জমিতেই এই নতুন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত অন্তত ২৮ ডুনাম (৬ দশমিক ৯ একর) জমি ফিলিস্তিনি মালিকদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করে ‘রাষ্ট্রীয় জমি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল, যা এখন এই বসতি সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে—বাজেয়াপ্ত জমির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে, কারণ পরিকল্পনার অধীনে থাকা কয়েক ডজন দুনাম জমির মালিকানা এখনও’ অজ্ঞাত’ হিসেবে ধরে রাখা হয়েছে। নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানটিতে বহু প্রাচীন গাছসহ বিশাল জলপাই বাগান রয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত মালিকানার সাক্ষ্য দেয়। গাছগুলোর কোন কোনোটির বয়স কয়েক দশক। সংস্থাটির দাবি, প্রকল্পের কাজ শুরু হলে এই গাছগুলো সম্ভবত উপড়ে ফেলা হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ‘অনুপস্থিত সম্পত্তি আইন’ অনুসারে পশ্চিম তীরের ‘সি’—ক্যাটাগরিভুক্ত অঞ্চলে থাকা জমি রাষ্ট্রের নামে নিবন্ধন করার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল। ফিলিস্তিনিরা দাপ্তরিক দলিলের মাধ্যমে মালিকানা প্রমাণ করতে না পারলে এই আইনের মাধ্যমে সেসব জমি রাষ্ট্রের নামে নিবন্ধনের সুযোগ পায় ইসরায়েল।

বহু ফিলিস্তিনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিক হলেও তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বত্ব দলিল নেই। বিশেষ করে ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করার পর অটোমান, ব্রিটিশ ম্যান্ডেট ও জর্ডানীয় প্রশাসনের আমল থেকে চলে আসা জমি নিবন্ধনের নিয়ম স্থগিত করে দেয়।

২,৩০০টি নতুন বাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে অবৈধ গিলো বসতি সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নিচ্ছে ইসরায়েল (ছবি: ফাইল) / রয়টার্স

‘উপনিবেশ ও দেয়াল প্রতিরোধ কমিশন’-এর আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের প্রধান হাসান ব্রেজিয়া এর আগে আনাদোলুকে বলেছিলেন, এই পদক্ষেপটি প্রকৃতপক্ষে ‘ফিলিস্তিনি জমি খাস করা এবং রাষ্ট্রের নামে তা নিবন্ধন করার কৌশল, যা পরবর্তীতে ইসরায়েলি দখলদারদের হাতে তুলে দেওয়ার পথ তৈরি করবে।’ তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এটি পশ্চিম তীরের অনিবন্ধিত বিশাল এলাকার জমিনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

জুন মাসের শেষের দিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণ ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর সরকার ইতোমধ্যে ১৬০টি ফার্ম তৈরি করেছে এবং ১০০ টিরও বেশি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের মতে, এসব বসতি স্থাপন ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলছে। ইসরায়েলি শান্তি আন্দোলন ‘পিস নাও’-এর তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে। এছাড়া পূর্ব জেরুসালেমের বিভিন্ন বসতিতে রয়েছে আরও প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ইসরায়েলি।

ফিলিস্তিনিরা বলছেন-এসব প্রকল্প মূলত একটি দ্রুতগতির ইসরায়েলি নীতিরই অংশ, যার মূল লক্ষ্য বসতি বাড়ানো, জমি দখল করা এবং ভূমিতে নিজেদের আধিপত্য জোর করে চাপিয়ে দেওয়া।

 

ইত্তেফাক/আরএইচ