শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবেশে আসছে কড়াকড়ি, যে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৮

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশে আরও কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন ছাড়া বিমানবন্দরে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। এজন্য বিমানবন্দরে প্রবেশমুখে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, সমন্বিত এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির প্রথম সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।  সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দফতরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেবিচকের মুখপাত্র ও সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বেবিচক জানায়, সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম কমিটির সভাপতি হিসেবে এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদু্জ্জামান মিল্লাত সহ-সভাপতি হিসেবে সভাপতিত্ব করেন।

এছাড়া সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর (ডিজিএফআই), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), এভিয়েশন সিকিউরিটি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল।

সূত্র জানায়, সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদার, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সংযোজন, বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

সভায় আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য আইকাওয়ের অডিট সফল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (কাস্টমস), ইমিগ্রেশন এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (NCB)-এর সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। যাতে আন্তর্জাতিক এ নিরাপত্তা নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

এছাড়া গত ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (NCASC) ১৩ তম সভার কার্যবিবরণী জাতীয় পর্যায়ের অনিবার্য কারণে এতদিন চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে, উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কার্যবিবরণীটি নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে দায়িত্বপ্রাপ্ত এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যাত্রী ও আগত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদানের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ দুজন দর্শনার্থীকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই সাপেক্ষে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়।

বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে স্থাপিত আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম  এর কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে পাঁচটি স্ক্যানারের মধ্যে তিনটি সচল থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকা দুটি  দ্রুত মেরামত বা প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। ততদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রবেশপথে আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং মিরর ব্যবহার করে যানবাহনের নিরাপত্তা তল্লাশি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভিআইপি ও সিআইপি যাত্রীদের নিরাপত্তা তল্লাশি প্রোটোকল যথাযথভাবে অনুসরণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রবেশপথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা স্থাপনের সুপারিশ করা হয়, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয় এবং চোরাচালান প্রতিরোধ জোরদার করা যায়।

দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে কনটিনজেন্সি ও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি এমওইউ (MoU) সম্পাদিত না হওয়া পর্যন্ত জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যাতে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে সহায়তা প্রদান করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় স্থায়ী নির্দেশনা জারির সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় ট্রাফিক জট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র‌্যাপিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়, যাতে যাত্রীসেবা, শৃঙ্খলা ও বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা আরও উন্নত হয়।

ইত্তেফাক/এনএ