চিকিৎসা উদ্দেশ্যে গাঁজার চাষ ও ব্যবহার বৈধ ঘোষণা করেছে নেপালের গণ্ডকী প্রদেশ সরকার। যদিও দেশটিতে গাঁজার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবে নতুন আইন অনুযায়ী ওষুধ হিসেবে এর ব্যবহার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার (৩ জুলাই) প্রদেশের গভর্নর আইনটিতে স্বাক্ষর করার পর এটি কার্যকর হয়।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গণ্ডকী প্রদেশের আইনসভার ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী দলের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে আইনটি পাস করেন।
নেপালের মোট সাতটি প্রদেশের মধ্যে গণ্ডকী অন্যতম। পর্যটননগরী পোখরা এবং বিখ্যাত সব পর্বত ও হাইকিং ট্রেইলের জন্য পরিচিত এই অঞ্চলে প্রাদেশিক আইন পাস হওয়ায় পুরো দেশে এক নতুন নজির তৈরি হলো। কারণ, নেপালের কেন্দ্রীয় আইনে সারা দেশে গাঁজা চাষ, বহনে ও ব্যবহারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নেপালের বিদ্যমান জাতীয় আইন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ব্যবহারের উদ্দেশে কারও কাছে গাঁজা পাওয়া গেলে এক মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আর এটি বিক্রি বা বিতরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান চালু রয়েছে।
নেপালে গাঁজা একটি ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বহু বছর ধরে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। এদিকে গাঁজা চাষ ও ব্যবহারের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবিতে দেশটির অধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
নেপালের সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে দীর্ঘদিন ধরে গাঁজার ব্যবহার প্রচলিত ছিল। কিন্তু ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে অন্যান্য দেশের অনুসরণে দেশটির সরকার গাঁজাকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করে।

