আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে রাজুকে গুলি করে আনসার-পুলিশ: জবানবন্দিতে রকিবুল

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৩৪

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারী রাজু আহম্মেদকে ঘিরে ধরেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী মো. রকিবুল ইসলাম। রাজুর চাচাতো ভাই রকিবুল জবানবন্দিতে বলেন, তার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে রাজুর পায়ে একজন আনসার সদস্য গুলি করেন। পরে একজন পুলিশ সদস্য এসে রাজুর পিঠের বাঁ দিকে গুলি করেন। রাজু তখন পড়ে যান।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ সাক্ষ্য দেন রকিবুল ইসলাম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। 

সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এ মামলার আসামি ২৮ জন।

জবানবন্দিতে রকিবুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সকালে তিনি ও তার চাচাতো ভাই রাজু আহম্মেদ রাজধানীর মোহাম্মপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে আরও ছাত্র-জনতা ছিলেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। একজন আনসার সদস্য রাজুকে তার কাছ থেকে কেড়ে নেন। এরপর রাজুর বাঁ পায়ে একটি গুলি করেন আনসার সদস্য ওমর ফারুক। এর মধ্যে অন্য একজন পুলিশ সদস্য এসে রাজুর পিঠের বাঁ দিকে গুলি করেন। তখন রাজু পড়ে যান।

একপর্যায়ে ছাত্র-জনতা ধাওয়া দিলে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান উল্লেখ করে রকিবুল ইসলাম বলেন, পরে তিনি রাজুকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের দিকে রওনা হন। হাসপাতালে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজুকে গুলি করার সিসিটিভি ফুটেজ পরে সংগ্রহ করেছেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন রকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, যারা গুলি করেছেন এবং যারা গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের বিচার চান তিনি।

‘সাক্ষী যদি অপদার্থ হয়, মামলা ধ্বংস করে’

জবানবন্দির পর রকিবুল ইসলামকে জেরা করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসানের জেরায় রকিবুল বলেন, সেই আন্দোলনে তিনি (রকিবুল) বহিরাগত ছিলেন।

জেরা শেষে প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহর উদ্দেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘সাক্ষী যতই প্রত্যক্ষদর্শী হোক না কেন, সে যদি অপদার্থ হয়, তাহলে মামলা ধ্বংস করে ফেলবে।’

তারপর এই মামলার ৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে আজ জবানবন্দি দেন মো. মতিয়ার রহমান। তিনি শহীদ রাজুর ফুফাতো ভাই।

জবানবন্দিতে মতিয়ার রহমান বলেন, রাজু তার মামাতো ভাই। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বেলা ৩টার দিকে ইব্রাহিম নামের একজন তাকে ফোন করে রাজুর গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা জানান। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে তিনি রাজুর মৃতদেহ দেখতে পান। রাজুর বাঁ পায়ে একটি গুলি এবং পেটের বাঁ পাশে আরেকটি গুলির ক্ষত দেখতে পান তিনি।

এই মামলায় চার আসামি গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক, শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এই মামলার ২৪ আসামি পলাতক।

ইত্তেফাক/এমএস