দরপত্র ছাড়াই বিআরটিসির জন্য ২০০ ইলেকট্রিক বাস কেনার নীতিগত অনুমোদন

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০০:৫৪

দরপত্র ছাড়াই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) জন্য ২০০টি ইলেকট্রিক বাস, চার্জিং স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই বাস কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এর আওতায় সরকারি অর্থায়নে বিআরটিসির জন্য আনুমানিক ২০০টি ইলেকট্রিক বাস, যার মধ্যে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাসও থাকবে, ক্রয় করা হবে। একই সঙ্গে বাস পরিচালনার জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে।

সরকারের এই উদ্যোগ ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর পরিকল্পনার অংশ। এর আগে বিআরটিসির জন্য ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি (ইকুইটি) হিসেবে বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিসি শাখা থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব স্বাক্ষর করেন।

সড়ক পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ইলেকট্রিক বাস চালু হলে জ্বালানি ব্যয় কমবে, বায়ুদূষণ হ্রাস পাবে, যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয়ও কমে আসবে। এ লক্ষ্যেই প্রথম ধাপে আনুমানিক ১০০টি ইলেকট্রিক বাস, ২৫টি চার্জিং স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রুটের পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোর আন্তঃনগর রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে একই উদ্দেশ্যে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান চেয়ে অর্থ বিভাগে আবেদন করা হয়েছিল। তবে অর্থ বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেয়।

কিন্তু বিআরটিসির বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা ও নিজস্ব তহবিলের সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো ব্যয় নিজস্ব অর্থায়নে বহন করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বলা হয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করা হলে প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত ঋণ ও সুদের বোঝা তৈরি হবে, যা জনস্বার্থে পরিচালিত গণপরিবহন সেবার জন্য দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।

এ কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেট থেকে বিআরটিসির অনুকূলে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগের কাছে পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

বরাদ্দ পাওয়া অর্থ শুধু নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যয় করা হবে এবং সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও সরকারি ক্রয় আইন-বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে- বলে জানিয়েছে বিআরটিসি।

বিআরটিসি আরও জানিয়েছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালু করা, কার্বন নিঃসরণ ও জ্বালানি ব্যয় কমানো, আধুনিক ও টেকসই পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারের ঘোষিত সবুজ পরিবহন করিডোর বাস্তবায়নে সহায়তা করা।

বিআরটিসির ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। এছাড়া ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ৫০ কোটি টাকা, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও স্পেয়ার পার্টস কিনতে ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি টাকা, পরিবহন, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ব্যয়ে ২৫ কোটি টাকা এবং ডিপোসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা উন্নয়ন ও মেরামতে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।

ইত্তেফাক/এমএস