বিমানে সব ধরনের পদোন্নতি স্থগিত

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩০

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে সব ধরনের পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত করেছে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সংস্থার প্রকৌশলী বিভাগে পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আসায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগ করেন বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবু সাঈদ। এরপরই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

জানা যায়, গত ৩ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শারমিন আক্তার একটি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল না করা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের সম্প্রতি গৃহীত পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঐ কর্মকর্তার অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগটিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে একটি চক্র প্রভাব বিস্তার করে আসছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে ১৫টি অনুমোদিত পদ প্রত্যাহার করে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। গত ২৮ জুন এ বিষয়ে একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে, সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পার্ট-১৪৫ বিধিমালার আওতায় অনুমোদিত জনবল কমিয়ে দেওয়ায় অপারেশনাল নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষ দিকে যোগ দেওয়া কয়েক জন কনিষ্ঠ কর্মীকে অস্বাভাবিকভাবে গ্রুপ-৬ পদে পদোন্নতি দিতে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩১ লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া আট জন যোগ্য প্রকৌশলীর পদোন্নতির ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা, লাইসেন্স ভাতা বন্ধ রাখা এবং কয়েক জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা, বাধ্যতামূলক সাক্ষাৎকার ছাড়াই পদোন্নতি দেওয়া, বদলির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পদ শূন্য দেখানো, পরে আবার আগের পদে ফিরিয়ে আনা, জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়া, টেকনিক্যাল দায়িত্ব পালন না করেও ভাতা প্রদান, কাগজে-কলমে ভিন্ন পদায়ন দেখানো, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং এক পদে নিয়োগ দিয়ে অন্য পদে কাজ করানোর মতো নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

সাংগঠনিক কাঠামোয় অস্তিত্ব না থাকা পদেও বেতন দেওয়া হচ্ছে। আবার কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়ালে শাস্তির পরিবর্তে তাকে অন্য বিভাগে বদলি করার অভিযোগও রয়েছে। মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগ নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেখানে কয়েক জন কর্মকর্তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি দেওয়া হলেও তাদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই ধরনের কৌশলে একাধিক ব্যক্তিকে একই পদে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের তদন্তাধীন।
বিমানের জনসংযোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মহিউদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, 'মন্ত্রণালয় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগের তদন্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।'

ইত্তেফাক/এএম