প্রশ্ন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

‘ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ দিল কেন?’

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৪

ভারতের নতুন দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি ও প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ সরকার। দেশটির সরকারের এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত ও পলাতক একজন ব্যক্তিকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর সুযোগ দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।

নয়াদিল্লির এই ঘটনার পর গত রাতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি আনুষ্ঠানিক তীব্র নিন্দা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। সেখানে তিনি এবং তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন।

এ বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ভারত শেখ হাসিনাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিলেও সেখানে বসে তিনি যেভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলছেন, তা অপ্রত্যাশিত। জুলাই আন্দোলনে তারা ব্যাপক গণহত্যা চালালেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুশোচনা প্রকাশ করেননি বা ক্ষমা চাননি, বরং ভারতের মাটিতে বসে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন।

নয়াদিল্লির ওই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তার দলের কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির বিচার হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে সেই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে চায় না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তারা এখনো আদালতের মুখোমুখি হয়নি। আদালত থেকে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে, সরকার সে অনুযায়ীই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি দীর্ঘ শাসনামলে দমন-পীড়ন, গুম, খুন এবং জুলাইয়ের গণহত্যার কারণে জনগণের কাছে আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ আস্থাহীন হয়ে পড়েছে এবং জনগণও তাদের সঠিক বিচার করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইত্তেফাক/এএম