পুলিশের অভিযানকালীন ৫ তলার ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিহত, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৪

সাভারের পুলিশের অভিযানের সময় পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৯) নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাতনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহত মনোয়ারুল হোসেন বকশী বিপিএটিসির নৈশপ্রহরী জাফর মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে বিপিএটিসির একটি পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় বসবাস করতেন এবং সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মনোয়ারুলের ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিক প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে গত ২৩ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে মিম নামে এক কিশোরীকে নিয়ে সাভারে নানার বাসায় আসেন। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবার পীরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। সেই জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার রাতে পীরগঞ্জ থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মণের নেতৃত্বে একটি দল সাভারে আসে। পরে সাভার থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিপিএটিসি এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় সৌমিক ও ওই কিশোরীকে বাসায় পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে মনোয়ারুল ভবনের ছাদে উঠে যান। পরে তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করা প্রতিবেশী রাসেল মনি অভিযোগ করেন, বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে তিনি ভবনের ছাদে একজন পুলিশ সদস্যকে দেখতে পান। নিচে মনোয়ারুলের নিথর দেহ পড়ে ছিল। কয়েক মিনিট পর ওই পুলিশ সদস্য ছাদ থেকে নেমে একটি মাইক্রোবাসে ওঠেন এবং পরে অন্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ঢাকা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সুজন শিকদার দাবি করেন, মিমকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ বাসায় প্রবেশ করলে মনোয়ারুল ছাদে চলে যান। এ সময় পুলিশও তাঁর পিছু নেয়। এরপর তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পীরগঞ্জ থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মণ। তিনি বলেন, তারা বাসার ভেতরে জাফর মিয়া ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় নিচে বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে একজন যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাফর মিয়া জানান, তিনি তাঁর ছেলে মনোয়ারুল।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, পীরগঞ্জ থানার পুলিশের অভিযানে সহায়তার জন্য নিয়ম অনুযায়ী সাভার থানা থেকে পুলিশ সদস্য দেওয়া হয়েছিল। সাভার থানার সদস্যরা ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন। মনোয়ারুল কীভাবে ছাদ থেকে পড়ে গেলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানের সময় ভবনের ছাদে কারা ছিলেন, কীভাবে মনোয়ারুল নিচে পড়ে যান এবং ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 
ইত্তেফাক/এমএএম