জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অর্থাৎ আজকের এইদিনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ওইদিন বঙ্গভবনে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা।
এর আগে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং দেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অর্থনীতিবিদ ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম সামনে আসে।
৮ আগস্ট রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ পড়ান। পরে সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টা শপথ নেন। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয় নতুন অন্তর্বর্তী সরকার।
শপথ নেওয়ার পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অর্থনীতি সচল রাখা, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার তদন্ত, দুর্নীতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ শুরু হয়। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার কথা বলে। নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, পুলিশ, জনপ্রশাসন, সংবিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য পরবর্তী সময়ে একাধিক কমিশন গঠন করা হয়।
এভাবেই ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় শুরু হয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এই সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় এবং রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পথ তৈরির উদ্যোগ নেয়।

