নারায়ণগঞ্জে বন্ধ কারখানার গুদামে যুবকের লাশ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৪

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের পচন ধরা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ওই গুদাম থেকে চুরিরত অবস্থায় আরও দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাশের পাশে চুরির সময় তাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ফতুল্লার পিঠালীপুল এলাকায় বন্ধ হয়ে যাওয়া প্যারাডাইজ ক্যাবলসের গুদাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা গুদাম থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ার বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন জামালপুরের পিয়াস (৩০) ও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের পারভেজ (২৫)। স্থানীয়দের দাবি, তারা এলাকায় ভাসমান অবস্থায় থাকতেন।

পুলিশ জানায়, গুদামে প্রবেশের পর উপুড় অবস্থায় এক ব্যক্তির পচন ধরা লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই সময় গুদামের ভেতর থেকে মালামাল চুরিরত অবস্থায় পিয়াস ও পারভেজকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে লাশের পরিচয় ও মৃত্যুর বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শিল্প পুলিশ-৪-এর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। নিহতের পরিচয় শনাক্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাজ শুরু করেছে।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ বন্ধ হয়ে যাওয়া প্যারাডাইজ ক্যাবলসের গুদামে যায়। সেখানে উপুড় হয়ে থাকা এক ব্যক্তির পচন ধরা লাশ পাওয়া যায়। লাশটির ওপর পোড়া তেল দেওয়া ছিল।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকারীরা লাশের গন্ধ যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পোড়া তেল দিয়ে থাকতে পারে। তবে লাশ পচে যাওয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

ওসি আরও বলেন, গুদামটি বেশ বড় হওয়ায় সেখানে থাকা দুই চোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয় এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লেও তারা কোনো গন্ধ পাননি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য যাচাইসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিকেল পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএএম