বুকে বিদ্ধ চাকু বের করতে স্ত্রীর কাছে আকুতি, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৪

পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে গোয়ালন্দ বাজারের তোড়াইয়ের মোড়সংলগ্ন রেললাইনের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম শরিফুল ইসলাম ওরফে হিরা।

শরিফুল ইসলাম (৪০) গোয়ালন্দ পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকার মৃত জাবেদ শেখের ছেলে এবং গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের উপপ্রচার সম্পাদক ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের সভাপতি শেখ সোহেল।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার কুমড়াকান্দি রেলব্রিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে শরিফুলের বুকে চাকু বিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন তার স্ত্রী শামসুন্নাহার মুক্তা। তিনি জানান, শরিফুল তখন চাকুটি বের করে দেওয়ার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চাকুটি বের করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে কামরুলের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন শরিফুল। কয়েক কিস্তিতে কিছু টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে শরিফুল বাড়ি থেকে বের হলে তার পথ রোধ করেন কামরুল।

শরিফুলের চাচা ও স্থানীয় শিক্ষক রবিন নুরতাজ জানান, বাকি টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে কামরুল হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে শরিফুলের বুকে আঘাত করেন। পরে তিনি পালিয়ে যান।

স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত শরিফুলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, গোয়ালন্দ বাজারের তোড়াইয়ের মোড় থেকে কুমড়াকান্দি রেলব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় মাদকের কারবার চলে। তাদের দাবি, শরিফুল ও আটক কামরুল-দুজনই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক কারবারের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধে এ ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলামও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ওসি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাদকের টাকা নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

ইত্তেফাক/এসএইচ