গাজায় একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।
শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পশ্চিম গাজার ‘কারাম’ ভবন থেকে উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার কথা জানায় সিভিল ডিফেন্স। সংস্থাটি জানায়, টানা চার দিন তল্লাশি চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের তদারককারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু দান জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা এখন গাজার অন্য এলাকায় তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ শুরু করবেন।
সিভিল ডিফেন্স বলছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে উদ্ধারকারীদের মূলত হাতে পরিচালিত সরঞ্জাম ও কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার গাজা সিটিতে একটি গণদাফনে আবু শারিয়া ও আল-হাসাইনা পরিবারের ১১২ জনের মরদেহ দাফন করা হয়। গাজার সাবরা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় ভবনটি ধ্বংস হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, পুরো উপত্যকাজুড়ে এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন। সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে ধসে পড়া কংক্রিট সরাতে উদ্ধারকারীদের অতিরিক্ত কায়িক শ্রম দিতে হচ্ছে।
মরদেহ উদ্ধারের চলমান কার্যক্রমটি সিভিল ডিফেন্সের একটি বিশেষ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের অংশ। গত ১৯ জুলাই এ ধাপ শুরু হয়। প্রকল্প শুরুর সময় সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় ধাপে ৮০০ ঘণ্টা ধরে গাজা, উত্তর গাজা ও মধ্য গাজার ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও ভবনে তল্লাশি চালানো হবে। এসব স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে আনুমানিক ১ হাজার ৭২টি মরদেহ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাসাল বলেন, ‘খুবই সীমিত’ সম্পদ নিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। তাদের কাছে রয়েছে একটি খননযন্ত্র, একটি বুলডোজার ও একটি ট্রাক। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিও এ কাজে সহায়তা করছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৫৪টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৩৩টি মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে আরও প্রায় ২২৬টি মরদেহ তখন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় ২০২৫ সালের অক্টোবরে জানিয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের কেউ ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার অনেকের পরিণতি এখনো জানা যায়নি।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে মরদেহ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল বলে গাজার কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল তা বাস্তবায়ন করেনি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ১ হাজার ২৫৪ জন নিহত এবং ৪ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮০৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ। এ সময়ে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।

