‘জাতির সাথে কখনো বেইমানি করব না’: রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল অলি

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৭:২১

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিতি বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

এর আগে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শুরু হয় বেলা সাড়ে ১১টায়।

বৈঠকে অংশ নেয় জামায়াত, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি।

সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ বলেন, 'আমি ১১ দলের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবাই মনে করেছে আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং পরীক্ষিত একজন লোক হিসেবে যোগ্য, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোন অভিযোগ নাই। শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নাই। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করেছি বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে।  আপনাদের মাধ্যমে আমরা জাতিকে বলতে চাই, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সাথে কখনো বেইমানি করব না। আমরা জনগণের পাশে সবসময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব।'

এদিকে বৈঠকের আলোচনায় বিএনপি সরকারের নির্বাচন-পরবর্তী অবস্থান, গণভোটের রায়, জুলাই সনদ এবং এর বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, 'জুলাই সনদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কমিশনে আলোচনা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে একটি নতুন ফর্মুলার প্রস্তাবও এসেছিল, যাতে আমরা সবাই মিলে একজন সর্বজনগ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সংশোধন এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের জায়গা থেকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছিলো।

'আমাদের প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচনের পর জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। গণভোটে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে—প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে—তার ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে এবং এর মাধ্যমে সংস্কারকৃত সংবিধানের অধীনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হবে; এটাই ছিল আমাদের প্রত্যাশা।

'কিন্তু আমরা দেখেছি, এই সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই তারা নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ হয়নি, অধিবেশন ডাকা হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের অভিযোগও উঠেছে; নির্বাচন কমিশনকেও দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।'

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, 'সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বলেছিলাম, ফ্যাসিবাদের দোসর চুপুকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করে দ্রুত নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করতে হবে এবং তা জুলাই সনদ অনুযায়ী করতে হবে। কিন্তু তারা তাকে ছয় মাস রাষ্ট্রপতি হিসেবে রেখে দিয়েছে। এখন তাকে কোনো ধরনের বিচারের আওতায় না এনে একটি 'ফ্রি এক্সিট' দেওয়া হচ্ছে—এ বিষয়টিও আমাদের কাছে সন্দেহজনক। এই ছয় মাস সময় বাড়ানোর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র আছে কি না, সেটিও আমাদের ভাবতে হচ্ছে। কারণ আমরা জানি, পরবর্তী পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে হবে এবং তখন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে জাতির মধ্যে একটি সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।'

তিনি বলেন, 'বিএনপির অতীত ইতিহাসেও আমরা দেখেছি, তারা বিভিন্ন সময় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে এবং এর ফলে দেশে একাধিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। এসব দীর্ঘমেয়াদি বিষয়ও আমাদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।'

অলি আহমদকে প্রার্থী করার বিষয়ে নাহিদ বলেন, 'তিনি বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতার বিষয়গুলো বিবেচনা করেই ১১ দলের পক্ষ থেকে আমরা তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'

ইত্তেফাক/এনএ