‘একাত্তরের চেয়ে চব্বিশ ওজনে ভারী’, রাবির প্রদর্শনীতে শিল্পকর্ম ঘিরে সমালোচনা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫৭

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রপ্রদর্শনীতে একটি চিত্রকর্ম নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। চিত্রকর্মটিতে দাঁড়িপাল্লার এক পাশে ‘৭১’ এবং অপর পাশে ‘২৪’ লেখা। ‘২৪’ লেখা পাল্লাটি নিচের দিকে ঝুঁকে থাকায় সমালোচকদের অভিযোগ, এতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

গতকাল রোববার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রঙ-তুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শিরোনামে তিন দিনব্যাপী এই চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন শুরু হয়।

তবে শিল্পকর্মটির শিল্পী ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘জুলাইয়ের পর থেকেই একটি গোষ্ঠী চব্বিশকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে আসছে। আমার কাজটিকে সে অর্থে দেখা ঠিক হবে না; এটি অলংকারিক উপস্থাপন। আমি মূলত একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশের এই অসম তুলনাটিকে বুঝাতে চেয়েছি।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘১৯৭১ আর ২০২৪-কে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা দেশের ঐক্য নষ্ট করতে পারে। তার মতে, এমন প্রবণতা শেষ পর্যন্ত পরাজিত শক্তিরই লাভ করে।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের ভিত্তির ইতিহাস। ২০২৪ সাল দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কিন্তু ১৯৭১-কে ছোট করে ২০২৪-কে বড় করার দরকার নেই। একটি ইতিহাসকে অপমান করে আরেকটি ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করা ঠিক নয়।’

ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ‘১৯৭১ আর ২০২৪ ভিন্ন সময় ও ভিন্ন বাস্তবতার ঘটনা। আমরা এই দুই ঘটনাকে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে চাই না। বরং দুই ইতিহাস থেকেই শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে চাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, ‘প্রদর্শনীটি চারুকলা অনুষদের তত্ত্বাবধানে হয়েছে। জনসংযোগ দপ্তরের কাজ ছিল শুধু সিনেট ভবনের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া। ছবিগুলোর বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের কিছু জানা ছিল না।’

ছবিটির শিল্পী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রদর্শনীর শিল্পকর্ম বাছাই করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিলেন মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ডিনের অনুপস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি জানান, তিনি কেবল একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন; প্রদর্শনীর জন্য পাঠানো ছবিগুলো যাচাই করা হয়নি।’

চিত্রকর্মটি নিয়ে জানতে চাইলে চারুকলা অনুষদের ডিন মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি সেদিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে ছবিটির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই। প্রদর্শনীর ছবিগুলো দেখার সুযোগও তাঁর হয়নি বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/ আরএইচ