আক্কেল দাঁত ওঠার সময় মাড়ি ফুলে যাওয়া, তীব্র ব্যথা ও চোয়ালে অস্বস্তি অনেকেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা। মাড়ির একেবারে শেষ প্রান্তে ওঠা এই দাঁত অনেক সময় সোজাভাবে না উঠে বাঁকা হয়ে বের হয়। এতে মাড়িতে চাপ পড়ে, কখনো মাড়ি ফেটেও যেতে পারে। ফলে শুরু হয় তীব্র যন্ত্রণা।
দাঁতের ব্যথা শুরু হওয়ার পর সবসময় তাৎক্ষণিকভাবে দন্ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে ঘরে থাকা কিছু সাধারণ উপাদান সাময়িকভাবে ব্যথা ও ফোলা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয়।
লবণ পানিতে কুলকুচি
আক্কেল দাঁতের ব্যথা ও মাড়ির ফোলা কমাতে হালকা গরম লবণ পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড মুখে রেখে কুলকুচি করে ফেলে দিতে পারেন। দিনে তিন থেকে চারবার এভাবে কুলি করলে মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবং অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
লবঙ্গ বা লবঙ্গের তেল
লবঙ্গে থাকা ইউজেনল ব্যথা কমাতে ও সাময়িকভাবে স্থানটি অবশ করতে সাহায্য করতে পারে। একটি আস্ত লবঙ্গ আক্রান্ত দাঁতের পাশে রেখে এর রস ধীরে ধীরে বের হতে দেওয়া যায়। লবঙ্গের তেল ব্যবহার করতে চাইলে তুলোর ছোট বলে দুই-তিন ফোঁটা তেল লাগিয়ে আক্রান্ত স্থানে অল্প সময়ের জন্য রাখা যেতে পারে।
বাইরে থেকে বরফের সেঁক
আক্কেল দাঁতের কারণে চোয়াল ফুলে গেলে বা ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে বাইরে থেকে ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন। কয়েকটি বরফ কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে মুড়ে ব্যথার পাশের চোয়ালে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে রাখুন। এতে ফোলা ও ব্যথা সাময়িকভাবে কমতে পারে।
রসুন ব্যবহারে সতর্কতা
রসুনে অ্যালিসিনসহ কিছু যৌগ রয়েছে, যেগুলোর জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা আছে। তবে কাঁচা রসুন সরাসরি মাড়ি বা দাঁতের ওপর লাগালে জ্বালা বা রাসায়নিক পোড়া তৈরি হতে পারে। তাই এটি সরাসরি মাড়িতে লাগানোর পরিবর্তে এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
ঠান্ডা টি-ব্যাগ
পেপারমিন্ট বা গ্রিন টি ব্যাগ ঠান্ডা করে আক্রান্ত মাড়ির ওপর কিছুক্ষণ রাখা যেতে পারে। ঠান্ডার কারণে সাময়িকভাবে ব্যথা ও ফোলা কমার অনুভূতি হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
ঘরোয়া এসব পদ্ধতি মূলত সাময়িক স্বস্তির জন্য। আক্কেল দাঁত যদি বাঁকা হয়ে ওঠে, বারবার ব্যথা বা মাড়ি ফুলে যায়, মুখ খুলতে সমস্যা হয়, পুঁজ বের হয়, জ্বর আসে কিংবা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে দেরি না করে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে আক্কেল দাঁতের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য চিকিৎসকের পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দরকার হতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

