বাংলাদেশ সফর নিয়ে ভারত সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় বিসিসিআই

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৮

বিগত এক বছরের তীব্র ভূ-রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় টানাপড়েনের পর প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফর নিয়ে ভারত সরকারের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা চাইতে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের আর তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকলেও সিরিজটি মাঠে গড়ানো নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

বিসিসিআই-এর একটি দায়িত্বশীল সূত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে নিশ্চিত করেছে যে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে সফর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বোর্ড নিজস্বভাবে নিতে পারছে না। ভারতীয় দল ঢাকায় আসবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে নয়া দিল্লির অনুমতির ওপর। বিসিবি ইতিমধ্যে সিরিজটি আয়োজনের উদ্দেশ্যে বিসিসিআইকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে এবং দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী ৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলতে আগামী ২৮ আগস্ট ভারতীয় ক্রিকেট দলের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত সূচিতে ২৯ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর সময়সীমার মধ্যে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিনটি ওয়ানডে এবং ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দুই প্রতিবেশী দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে চির ধরেছিল চলতি বছরের শুরুতেই। মূলত গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আইপিএল থেকে বাংলাদেশের তারকা ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুরকে কিনেছিল এবং তিনি ছিলেন সেই আসরের নিলামে নির্বাচিত একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার। উগ্রপন্থিদের হুমকি ও দ্বিপাক্ষিক 'সাম্প্রতিক পরিস্থিতি'র দোহাই দিয়ে বিসিসিআই সম্পাদক দেবজিৎ সাইকিয়া মুস্তাফিজকে কেকেআর দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কা, উগ্রপন্থিদের হুমকি এবং বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শে বিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে টাইগাররা ভারতে যাবে না। আইসিসির কাছে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো স্থানান্তরের আবেদন করা হলেও ভারত তা আমলে নেয়নি, ফলে বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে। এই উত্তেজনার জেরে বাংলাদেশ সরকারও দেশে আইপিএলের সম্প্রচারের ওপর অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশ জারি করে।

এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টেও ভারতের তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল। পরবর্তীতে দুই বোর্ডের সমঝোতায় আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা ও আন্তর্জাতিক সূচির সুবিধার কথা বলা হলেও মূলত কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সফরটি পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পুনঃনির্ধারণ করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কে বরফ গলার আভাস মিলেছিল।

কিন্তু সম্প্রতি নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তিতে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের ক্রিকেট সূচি বাস্তবায়নে আবারও অনিশ্চয়তার কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিসিবি ক্রীড়া কূটনীতিকে কাজে লাগিয়ে মাঠের ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরে জমে থাকা প্রশাসনিক উত্তেজনা কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্ক পুনর্গঠনে এই সফরটি এখন দুই দেশের জন্যই এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন