উত্তর গোলার্ধের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বুধবার (১২ আগস্ট) ঘটতে যাচ্ছে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ পেলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বড় একটি অংশ থেকে গ্রহণটি দেখা যাবে না।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পথ আর্কটিক অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের ওপর দিয়ে স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড সূর্য পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে থাকবে।
এ ছাড়া লন্ডন, প্যারিসসহ পশ্চিম ইউরোপ, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার কিছু অঞ্চল থেকে গ্রহণটির আংশিক দৃশ্য দেখা যাবে। তবে বাংলাদেশ এই গ্রহণের দৃশ্যমান এলাকার বাইরে থাকায় দেশের কোথাও থেকে সূর্যগ্রহণটি দেখা যাবে না।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট। তবে সেটিও হবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। ওই দিন ঢাকায় গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সূর্যের মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ অংশ চাঁদের আড়ালে থাকবে। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে ঢাকায় গ্রহণটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
আগামী দুই দশকে ঢাকা থেকে আরও কয়েকটি আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এর মধ্যে ২০৩৪ সালের ২০ মার্চের গ্রহণটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। ওই দিন ঢাকার আকাশে সূর্যের প্রায় ৫৮ শতাংশ অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে।
এ ছাড়া ২০৩১ সালে প্রায় ৪২ শতাংশ, ২০৩৫ সালে ৪৩ শতাংশ এবং ২০৪২ সালে প্রায় ৪৫ শতাংশ সূর্য চাঁদের আড়ালে ঢেকে যেতে দেখা যাবে।
১২ আগস্টের এই বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশিদের এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছরের আগস্ট পর্যন্ত।

