ফের ‘সমকামিতার’ অভিযোগে ঢাবির হল থেকে ২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৪২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘সমকামিতা’র অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাদের উভয়েকে হল থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

হলের প্রোভোস্ট ড. মো. আখতারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের বিষয়টি জানার পর দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করে তাদের হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে হলের হাউস টিউটর ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম সোহাগকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

মুজিব হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ জানান, অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীই প্রথম বর্ষের। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে তাদের আসন বাতিল করা হয় এবং স্থানীয় অভিভাবকদের উপস্থিতিতে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী বলেন, এই ঘটনা অনেকটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি এমন কোন কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমার রুমমেট একজন আমাকে বিগত কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রশ্ন করছিল। আর যেহেতু আমার বাসা গোপালগঞ্জ, সে আমাকে গোপালগঞ্জে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করতো। এখন বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ আমলের কারণে মানুষের মনে এমন ধারণা হয়েছে যে গোপালগঞ্জ মানে খারাপ কিছু। গোপালগঞ্জ পরিচয় দেওয়ার পরে অনেকে আমার দিকে নেতিবাচকভাবে তাকিয়ে থাকে। যে ভিডিও বা ছবি প্রমাণ হিসাবে দেওয়া হয়েছে সেগুলো আমার সেই রুমমেট করেছে এবং হল সংসদের জিএস এর সাথে তার ভালো সম্পর্ক।

আর সেই রুমমেটই এই ছবি ভিডিওগুলো জিএসকে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর তাকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবেও প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ও এর পেছনের কারণ নির্ধারণে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইত্তেফাক/এসজেএস