চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে হাজী নজরুল, এমপি গাজী নজরুলের দাবি ষড়যন্ত্র

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৪:২৫

চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে থাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলামের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরব হয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। হাজী নজরুলের গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি করে শ্যামনগরবাসীকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন গাজী নজরুল ইসলাম। এর আগে তার ব্যক্তিগত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একই অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাখ্যা দিয়ে পোস্ট করেছিলেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম লেখেন, ‘শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুবারের সফল চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মুখরোচক অপপ্রচার প্রতিপক্ষের কঠিন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের ফল।’

তিনি আরও দাবি করেন, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র করে নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শ্যামনগরবাসীকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তা না হলে শ্যামনগরে ভবিষ্যতে ন্যায় ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের উদ্ভব কঠিন হয়ে পড়তে পারে।’

তবে হাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে চাঁদা দাবি, প্রকল্পের কাজে বাধা, হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় মামলা করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি করে কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এরপর ২৩ মে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর এবং তাকে রক্ষা করতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ আনা হয়। প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে হাজী নজরুল ইসলাম এসব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডল ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে গত সোমবার (১০ আগস্ট) তারা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে গাজী নজরুল ইসলামের ফেসবুক পোস্টে ওই আদালতের আদেশকেই ‘হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজে