বস্তায় বস্তায় ত্রাণের পণ্য মিললো পিআইও অফিস সহকারীর বাসায়

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১০

ফেনীর ফুলগাজীতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারী আবদুল বাকের হোসেনের বাসা থেকে সরকারি ত্রাণের বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ফুলগাজী যুব উন্নয়ন কার্যালয় সংলগ্ন ভাড়া বাসার নিচতলায় থেকে এসব মালামালগুলো উদ্ধার করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী ও শুকনা খাবারের প্যাকেট জব্দ করা হয়েছে। এসব সামগ্রী বস্তাভর্তি অবস্থায় সেখানে রাখা ছিল। জব্দ হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ৩০০ কেজি চাল, ৩২ লিটার সয়াবিন তেল, ৩০ কেজি লবণ, ৩০ কেজি চিনি, ৩৩ কেজি মসুর ডাল, ৩০ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ২০০ গ্রাম) হলুদের গুঁড়া, ৩২ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ১০০ গ্রাম) মরিচের গুঁড়া এবং ৩১ প্যাকেট (প্রতি প্যাকেট ১০০ গ্রাম) ধনিয়ার গুঁড়া।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এসব ত্রাণসামগ্রী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের। এসব মালামাল গরীব ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া ত্রাণের প্যাকেটের গায়ে ‘২০২৪-২৫ অর্থবছর’ লেখা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবদুল বাকের গত বছরের ১০ জুলাই ফুলগাজী উপজেলায় যোগদান করেন। পরে চলতি বছরের ২২ জুলাই তিনি ফুলগাজী থেকে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলায় বদলি হন। বদলির পরও তিনি ফুলগাজীর ভাড়া বাসাটি পরিবর্তন করেননি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বাকেরের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ফুলগাজীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করায় তাদের সুবিধার্থে তিনি বাসা পরিবর্তন করেননি। অভিযুক্ত আবদুল বাকের (৪৫) নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ানই ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আমিনউল্লাহর ছেলে।

এদিকে ২০২৫ সালে ফুলগাজীতে ভয়াবহ বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এসব ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। সরকারি ত্রাণের মালামাল একজন কর্মচারীর ভাড়া বাসায় কীভাবে এলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আবদুল বাকেরকে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া মেলেনি।  

ফুলগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ. দা.) রাজীব আহমেদ বলেন, বাকের বর্তমানে সন্দ্বীপে কর্মরত। সন্তানদের পড়ালেখার কারণে বদলির পরও তিনি ফুলগাজীর বাসা পরিবর্তন করেননি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ফুলগাজী থানা পুলিশের ওসি মো. শাহীন মিয়া বলেন, জব্দ মালামাল থানা হেফাজতে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেন, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামালের প্যাকেটে থাকা লেখা অনুযায়ী এগুলো ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সরকারি ত্রাণ। ওই ব্যক্তি ফুলগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী (কাম কম্পিউটার অপারেটর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত মাসে বদলি হয়ে বর্তমানে নোয়াখালীর সন্দ্বীপ উপজেলায় কর্মরত বলে জানতে পেরেছি।

ইত্তেফাক/এপি