যুক্তরাষ্ট্রে নিজ কন্যাকে হত্যার ২৯ বছর পর মেক্সিকোতে গ্রেপ্তার মা

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৩:১২

তিন বছর বয়সী নিজ কন্যাকে হত্যার অভিযোগে প্রায় তিন দশক ধরে পলাতক থাকা এক মার্কিন নারীকে মেক্সিকো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মারিয়া নারেজ নামের ৪৮ বছর বয়সী ওই নারীকে বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ট্যারান্ট কাউন্টিতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মারিয়া নারেজকে মেক্সিকোর ঠিক কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা এত দীর্ঘ সময় তিনি সেখানে কীভাবে লুকিয়ে ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে তাঁকে টেক্সাসে প্রত্যর্পণ করে ‘ক্যাপিটাল মার্ডার’ বা গুরুতর হত্যার অভিযোগে বিচারকাজ শুরু করা হবে।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের নভেম্বরে। তখন মারিয়ার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকার একটি মুদি দোকানে কাজ করতেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় নিজ বাড়িতে তিন বছরের শিশু কাসান্দ্রা হোয়াইটকে ঝাঁকানোর পর মারধর করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে সজোরে দেয়ালের দিকে ছুড়ে মারেন। এতে দরজার কিনারায় আঘাত পেয়ে শিশুটির মাথা মারাত্মকভাবে জখম হয়।

ফোর্ট ওয়ার্থ পুলিশের তৎকালীন এক কর্মকর্তার বরাতে পুরোনো সংবাদমাধ্যমের নথিতে বলা হয়েছে, আঘাত পাওয়ার পর শিশু কাসান্দ্রা যন্ত্রণার কথা জানিয়েছিল। এরপরও সে ঘুমাতে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে মারিয়া মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে মারিয়া জানিয়েছিলেন, তিনি চরম হতাশা ও মানসিক চাপে ভুগছিলেন। এর জেরেই মেজাজ হারিয়ে ওই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

কন্যা হত্যার দায়ে ১৯৯৭ সালে মারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে একটি গ্র্যান্ড জুরি। বিচার চলাকালে আদালত তাঁর জামিনের অঙ্ক কমিয়ে ২৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করেন। এই সুযোগে জামিন নিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরে জামিনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তখন থেকেই সীমান্ত পেরিয়ে মেক্সিকোতে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

ট্যারান্ট কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিশু কাসান্দ্রা মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা তারা কখনোই বন্ধ করেনি। দীর্ঘ ২৯ বছর পর এই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করায় মেক্সিকো ইন্টারপোল, ইউএস মার্শালসের মেক্সিকো শাখা, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ইত্তেফাক/এনএন