এসএসসির পাসের দুই দিন পর সাপের কামড়ে সোনালীর মৃত্যু

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৪

দুই দিন আগে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আনন্দে ভেসেছিল পাবনার বেড়া উপজেলার সোনালী আক্তারের পরিবার। তবে সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই বিষধর সাপের কামড়ে প্রাণ হারিয়েছে ওই কিশোরী।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়নের দুর্গম চর মিরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সোনালী অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর মা মোছা. রাশেদা খাতুন (৪০) তাকে নিয়ে মামার বাড়িতে চলে আসেন। সেখানেই থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন সোনালী।

এর আগে রাশেদা খাতুনের আরেক মেয়ের মৃত্যু হয়। এরপর সোনালীই হয়ে ওঠেন মায়ের সব স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। মেয়েকে ঘিরেই ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে রাশেদা আর বিয়েও করেননি।

এসএসসির ফল প্রকাশের পর মেয়ের সাফল্যে যখন মা ও পরিবার আনন্দিত, ঠিক তখনই সাপের কামড়ে সেই স্বপ্নের করুণ পরিণতি ঘটে। সোনালীর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বেড়ার সিনথী পাঠশালা থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ৩ দশমিক ৫৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় সোনালী। ফল প্রকাশের পর দুই দিনও কাটেনি, তার আগেই নিভে গেল ওই কিশোরীর জীবনপ্রদীপ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে মায়ের সঙ্গে পাশের একটি বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে ফিরছিল সোনালী। এ সময় তাকে একটি সাপ কামড় দেয়। পরে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে উপজেলার বাঁধেরহাট নামক স্থানের এক ওঝার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ঝাড়ফুঁকের একপর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। তখন তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার আগেই পথে তার মৃত্যু হয়।

বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে শোকস্তব্ধ রাশেদা। স্বজনদের কাছে বারবার তিনি শুধু বলছেন, ‘আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?’

সহপাঠী ও শিক্ষকেরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্কাউটিং ও খেলাধুলায়ও পারদর্শী ছিল সোনালী। বিদ্যালয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করত। তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি শিক্ষক-সহপাঠীদের কাছে ছিল খুবই প্রিয়।

সিনথী পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সজীব বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয় ভালো ফল করায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে আনন্দ অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে ফোনে সোনালীর সঙ্গে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ তার কথা হয়। সোনালী শুধু পড়াশোনায় ভালো ছিল না, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্কাউটিং ও খেলাধুলাতেও তার আগ্রহ ও দক্ষতা ছিল। তার এমন মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শোকাহত।

 
ইত্তেফাক/এমএস