বাগেরহাটে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হলো একটি মাছ

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৯

বঙ্গোপসাগরে জালে আটকা পড়া সাড়ে ২২ কেজি ওজনের ‘দাতিনা ভোল’ মাছ ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট কেবি বাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মিরাজ হাওলদার আড়তে ডাকে (উন্মুক্ত নিলাম পদ্ধতি) মাছটি বিক্রি হয়। প্রতি মন ৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা দরে মাছটি বিক্রি হয়েছে। যার প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে ১৫ হাজার ৭৭৭ টাকা। উচ্চ মূল্যে এই মাছটি ক্রয় করেছেন মাছ ব্যবসায়ী হারুন মীর।

এর আগে গত ১১ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে বিশাল আকারের এই মাছটি ধরা পড়ে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের ইলিয়াছ হোসেনের মাছ ধরা ট্রলারে। ইলিশ মাছ ধরা ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারের মালিক ও মাঝি ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ‘সাগরের আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশ জালে ধরা পড়ছে না। তাই বাড়ি ফেরার শেষ মুহূর্তে সাগরে জাল ফেলা হয়। রাতে জাল টানার সময় দাতিনা ভোল মাছটি পাওয়ায় খুশি হয়েছি। এই মাছটির দাম অনেক।’

ভোল মাছ ক্রেতা হারুন মীর বলেন, ‘দাতিনা ভোল মাছের মণ ৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। সেই হিসাবে সাড়ে ২২ কেজি ওজনের মাছটি ক্রয় করেছি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায়। এখন এই মাছটি বরফ দিয়ে বড় মোকামে নেকয়া হবে, সেখান থেকে চট্রগ্রামে পাঠানো হবে। আশা করি ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবো।’

উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ছোট ছোট জাল সাগরে নিয়ে যাওয়ার কারণে এই মাছ ছোট থাকতেই ধরা পড়ে। অনেকদিন বছর পরে সাড়ে ২২ কেজির দাতিনা ভোল ধরা পড়েছে। এটি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অনেকদিন পর এই মাছ পাওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।’

মাছ ব্যবসায়ীর জানান, চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মাছের পটকার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মাছটি বিশাল অঙ্কে বিক্রি হওয়ায় স্থানীয় জেলেদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। স্থানীয়দের মতে, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদীগুলোতে মাঝেমধ্যেই এমন দু-একটি বিরল মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে, যা এক রাতেই তাদের ভাগ্য বদলে দেয়।

মাছের পটকা ওষুধ প্রস্তুতি, বিশেষ করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ সুতা (Surgical Thread) এবং প্রসাধনী তৈরিতে আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়।

ইত্তেফাক/এসএইচ