বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের জন্য দায়ী দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা: গোলাম পরওয়ার

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:২২

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে উঠেছে। 

বৃহস্পতিবারে (১৩ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।  

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি দেশে চরম বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতিতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। ৯ আগস্ট থেকে এ ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে দেশ। তথ্যমতে ৯ আগস্ট ৩৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট। এতে দেখা যায়, গত কয়েকদিনে গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। যার ভুক্তভোগী হয়েছে দেশের মানুষ ও শিল্পখাত। 

তিনি বলেন, গত ১২ আগস্ট ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। দেশে জ্বালানি সংকট বেড়ে যাওয়ায় ক্রমান্বয়ে জনরোষ বাড়ছে। ইতোমধ্যে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এটি সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার চিত্রকে তুলে ধরে। 

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সরকার সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, নাগরিকরা বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে নিয়মিত রান্না-বান্নাসহ নিত্যকর্ম পরিচালনা করতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নে ব্যাঘাত ঘটছে। সর্বোপরি নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার সংকট নিরসনে কার্যকর কোনও উদ্যোগ না নেওয়া জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতার পরিচয়।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের নামে পুরনো অলিগার্কদের নতুন করে সুবিধা দিয়ে সরকার এ সংকটকে আরও গভীর করবে। 

এমতাবস্থায় দুর্ভোগ লাঘবে সরকারকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, শিল্পের গ্যাস চুরি বন্ধ, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমিয়ে আনা, এনার্জি কনভার্শনের যাবতীয় পলিসি ও যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করা, তেল পাচার রোধের ব্যবস্থাসহ সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। 

ইত্তেফাক/এসএএস