চুয়েটের সব পুকুরে নামায় নিষেধাজ্ঞা, দুই সপ্তাহে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪১

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুকুর যেনো মৃত্যুফাদ। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ক্যাম্পাসের সবগুলো পুকুরকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুকুরে নামা, সাঁতার কাটা বা যেকোনো ধরনের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই নির্দেশ অমান্য করে কেউ পুকুরে নামলে বা প্রবেশ করলে, তা স্পষ্টত বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। সে ক্ষেত্রে নির্দেশ অমান্যকারীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নেওয়া হবে কঠোর শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুলাই চুয়েটের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে তলিয়ে যান যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। সেই শোকের রেশ না কাটতেই বুধবার (১২ আগস্ট) একই পুকুরে নেমে প্রাণ হারান আরও দুই শিক্ষার্থী। নিহতরা হলেন— ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী চমক দত্ত এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শান্ত দেব।

পরপর দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে এখন গভীর শোকের ছায়া। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্যাম্পাসে সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে চুয়েট প্রশাসন।

ইত্তেফাক/ডিডি