শেরপুর

নিখোঁজের ৯ দিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নারীসহ গ্রেপ্তার ৫

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:২৩

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে চাঞ্চল্যকর ধান ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিহত বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত বিল্লাল হোসেন (৪০) উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের জারুলতলা গ্রামের মৃত জুলহাস উদ্দিনের ছেলে। গত ৪ আগস্ট রাত ১০টার দিকে চা খাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর আগে বুধবার বিকেলে জারুলতলা এলাকায় অঞ্জনাঝর্ণার পাশে স্থানীয় শিশু-কিশোররা মাছ ধরতে গেলে বাঁশঝাড়ের দিক থেকে পচা দুর্গন্ধ পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঝিনাইগাতী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে বিল্লাল হোসেনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, মরদেহের চোখ-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার শরীরের একটি সংবেদনশীল অঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব আঘাত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে বিল্লাল হোসেনের মরদেহ দাফন করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিল্লাল হোসেন ধানের ব্যবসার পাশাপাশি সুদের ব্যবসাও করতেন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ও যাতায়াত ছিল। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখানকার এক নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

তবে ৫ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, নিহতের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় এক নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি