রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র, কারণ জানাল ১১–দলীয় ঐক্য

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০০

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় একটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিকেল ৩টার দিকে তার পক্ষে দ্বিতীয় মনোনয়নপত্রও নির্বাচন কমিশনে জমা দেন জোটের নেতারা।

রাষ্ট্রপতি পদে একই প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনে কোনো বাধা নেই। তবে অলি আহমদের পক্ষে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে জোট গুরুত্বসহকারে দেখছে। মনোনয়নপত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি বা আইনি জটিলতা যাতে না থাকে, সে কারণেই দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একাধিক মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমা দেওয়ার নজির রয়েছে।

জামায়াতের দলীয় সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেনও একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোট দেবেন এবং তাঁদের মধ্য থেকেই প্রস্তাবক ও সমর্থক হতে হবে। কোনো ত্রুটি এড়াতেই অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে জমা দেওয়া অলি আহমদের মনোনয়নপত্রে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা নামের সঙ্গে কিছুটা গরমিলের বিষয় সামনে আসে। এরপর সম্ভাব্য ত্রুটি এড়াতে দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রথম মনোনয়নপত্র বৈধ হলে দ্বিতীয়টি আর যাচাই করার প্রয়োজন হবে না। কেন দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, সেটি ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারাই বলতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়। ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে অলি আহমদের পক্ষে দুটি এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি মনোনয়নপত্র রয়েছে।

এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও শেষ পর্যন্ত একটি জমা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নির্বাচন কমিশন আগামী ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে রাষ্ট্রপতি পদে জমা হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবে। এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা ইসিকে সহযোগিতা করবেন এবং প্রার্থীদের স্বাক্ষর যাচাই করা হবে।

প্রার্থীরা ১৮ আগস্টের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপর আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শুধু সংসদ সদস্যরাই এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১–দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৯০। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত ও নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

ইত্তেফাক/এএম