ভারতের আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী ধেমাজি এলাকায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আসামের মিসিং জনগোষ্ঠীর শীর্ষ ছাত্র সংগঠন তাকাম মিসিং পরিন কেবাংয়ের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অর্থনৈতিক অবরোধকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
বুধবার আসামের ১১ জন আদিবাসী গুলিতে আহত হওয়ার প্রতিবাদে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ শুরু করে সংগঠনটি। কর্মসূচিতে স্থানীয় আরও কয়েকটি সংগঠনও সমর্থন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে আসামের ধেমাজির লিকাবালি প্রবেশপথে অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে শূন্যে গুলি ছুড়তে হয়।
অবরোধ কর্মসূচিতে তাকাম মিসিং পরিন কেবাংয়ের পাশাপাশি মিসিং মিমাগ কেবাং ও তাকাম মিসিং মহিলা কেবাংও সমর্থন দিয়েছে। জরুরি সেবা ও স্কুল পরিবহন ছাড়া অরুণাচল প্রদেশে যাতায়াতকারী যানবাহন আটকে দেওয়া হচ্ছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার আসামের আদিবাসীবিষয়ক মন্ত্রী রনোজ পেগু এবং সীমান্ত সুরক্ষা ও উন্নয়নমন্ত্রী অতুল বোরা তাকাম মিসিং পরিন কেবাং ও অল মিসিং স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রনোজ পেগু জানান, সীমান্তবর্তী ধেমাজির মিংমাং এলাকায় গুলির ঘটনায় আসামের কয়েকজন আহত হওয়ার বিষয়টি অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হবে।
তিনি বলেন, ঘটনাটি আসামে ঘটলেও গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা। আসাম সরকার অরুণাচল সরকারের কাছে তদন্তে সহযোগিতা এবং অভিযুক্তকে আসাম পুলিশের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানাবে। আহতদের চিকিৎসার ব্যয় আসাম সরকার বহন করবে বলেও জানান তিনি।
তাকাম মিসিং পরিন কেবাংয়ের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন রনোজ পেগু। দুই রাজ্য সরকার আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যা সমাধান করবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, অতুল বোরা সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মিসিং জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কথা শোনেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
এর আগে সোমবার আসাম–অরুণাচল সীমান্তে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে আসামের জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
এই ঘটনার প্রতিবাদেই বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের অর্থনৈতিক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।
আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে ৮০৪ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত ও জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দুই রাজ্যের মধ্যে চলমান সীমান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই রাজ্যের সীমান্তে শুরুতে বিরোধপূর্ণ বা সংঘাতপ্রবণ ১২৩টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৭১টি এলাকার বিরোধ ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ৫২টি এলাকা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

