চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় দুই জাহাজের সংঘর্ষ, তেলবাহী ট্যাংকারে ফাটল

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৯

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে নোঙর করে থাকা একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তেলবাহী জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষের পেছনের বাঁ পাশে প্রায় এক বর্গমিটার ফাটল সৃষ্টি হয়। ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে সাময়িকভাবে জাহাজটির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে জাহাজের ডিজেলভর্তি কার্গো ট্যাংকগুলো অক্ষত রয়েছে এবং কোনো তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়েনি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেওয়া এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে ‘এমটি সি স্পাইক’ নামের তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে নোঙর করে থাকা ‘এমভি সান শাইন’ নামের বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র স্রোতের কারণে তেলবাহী জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সংঘর্ষের পর সি স্পাইকের কোনো কার্গো ট্যাংকে পানি ঢোকেনি এবং ডিজেলও নিঃসরণ হয়নি। তবে ইঞ্জিনকক্ষের পেছনের বাঁ পাশে ফাটল সৃষ্টি হয়ে পানি ঢোকার কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ-বিপর্যয় দেখা দেয়। জরুরি ব্যাটারির মাধ্যমে জাহাজটির বেতার যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। জাহাজটিকে স্থিতিশীল রাখতে দুটি নোঙর ফেলা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জোয়ার-ভাটার হিসাব অনুযায়ী ভাটার সময়ও জাহাজটি নিরাপদে ভেসে থাকার কথা।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, দুর্ঘটনার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। বন্দরের টাগবোট ‘কান্ডারি-৮’ ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

তিনি জানান, জাহাজে থাকা ডিজেল দ্রুত খালাসের জন্য শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফাটল মেরামত ও জাহাজ উদ্ধারে একটি উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের চ্যানেলে জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

ইত্তেফাক/এসজে