ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফেসবুক লাইভে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সমালোচনা করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত নেতা আসাদ খোকনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার হরিপুর রাজবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ এ হামলায় জড়িত। তবে বিএনপি নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আসাদ খোকন নাসিরনগরের বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত বছর তাকে সাময়িকভাবে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও আসাদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে জেলা শহর থেকে ‘ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর’ সংগঠনের উদ্যোগে হরিপুর রাজবাড়িতে নৌকাভ্রমণ ও বনভোজনের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি আসাদ খোকনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি অংশ নেন।
দুপুরের দিকে রাজবাড়িতে পৌঁছে আসাদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে যান। পরে দুপুর ২টার দিকে তিতাস নদীতে গোসল করার সময় ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে তাকে রাজবাড়ির ভেতরে একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে এনসিপির নেতা সুফিয়ান আজাদও আঘাত পান বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে মারধরের কারণে আসাদ খোকন অচেতন হয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।
পরে হামলাকারীরা তাকে নাসিরনগর সদরে নিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর পুলিশ তাকে পরিবারের জিম্মায় দেয়।
নৌকাভ্রমণ ও বনভোজনের আয়োজক সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাবের হোসাইন অভিযোগ করেন, আসাদ খোকন বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান ও সরকারের সমালোচনা করতেন। তার দাবি, ফেসবুক লাইভে সমালোচনার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা আসাদের ওপর কয়েক দফা হামলা চালান।
তবে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন তুহিন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত নন।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বর্তমানে ওমরাহ পালনের জন্য দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার কারণে স্থানীয় কিছু মানুষের মধ্যে আসাদ খোকনের প্রতি ক্ষোভ ছিল। এ কারণে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
তবে মারধরের শিকার হলেও আসাদ খোকন এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান ওসি।

