মা-বাবা হারানো অদম্য তাসফিয়া, ১০ বছর পর হাতিয়ার স্কুলে একমাত্র জিপিএ-৫

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৫

অভাব-অনটন আর স্বজন হারানোর বেদনাকে পেছনে ফেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের রেহানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসফিয়া আক্তার। ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারানো তাসফিয়ার এই অসামান্য কৃতিত্বে বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ ১০ বছর পর জিপিএ-৫ পাওয়ার আক্ষেপ ঘুচল।

ছোটবেলাতেই মা-বাবাকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে তাসফিয়া। এরপর তার আশ্রয় হয় দরিদ্র চাচা মোহাম্মদ ইলিয়াছ উদ্দিনের সংসারে। চাচার সীমিত আয়ে নিজেদের ভরণপোষণ চালানোই যেখানে কঠিন ছিল, সেখানে তাসফিয়ার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। প্রাইভেট পড়া বা ভালো গাইড বই কেনার সুযোগ ছিল না, অনেক সময় পরীক্ষার ফি জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ত। তবে দারিদ্র্য তার স্বপ্নকে আটকাতে পারেনি। চাচার সহযোগিতায় অভাবের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যায় সে।

হাতিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের রেহানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে গত এক দশকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। তাসফিয়ার এই অভাবনীয় ফলাফলে ওই বিদ্যালয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘মেয়েটির অদম্য স্পৃহা ও পড়াশোনার প্রতি নিষ্ঠা আমাদের মুগ্ধ করেছে। সব বাধা পার করে সে যে ফলাফল এনেছে, তা আমাদের বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। এটি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’

তাসফিয়ার এমন সাফল্যের খবর পেয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল তাকে কার্যালয়ে ডেকে আনেন। সেখানে তিনি তাকে কলেজে ভর্তি ও পোশাক কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। একই সঙ্গে সরকারের অনগ্রসর শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা, বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই সরবরাহ এবং আগামী দুই বছর অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, ‘রেহানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে গত ১০ বছরের ইতিহাসে প্রথম জিপিএ-৫ অর্জন করেছে তাসফিয়া। এটি তার মেধা, পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ। তাসফিয়া যেন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য উপজেলা প্রশাসন সব সময় তার পাশে থাকবে।’

তাসফিয়া ভবিষ্যতে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চায়। সে বলে, ‘চাচা আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। আর বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুপ্রেরণাই আমার এই সাফল্যের মূল কারণ।’

ইত্তেফাক/এনএন