পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গভীর রাতে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা হানা দিয়ে পুলিন মিত্র (৫৩) নামে এক কৃষককে হত্যার পর ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের ছেলে প্রবীর মিত্র। তবে প্রবীরের কথায় অসঙ্গতি থাকার কারণে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে নিহত ওই কৃষকের বসতঘর থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় নিহতর মুখ রক্তাক্ত ছিল তবে শরীরে কোনো আঘাতের আলামত ছিল না বলে পুলিশ জানায়।
মঠবাড়িয়া উপজেলার ছয় নম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের পাঁচশত কুড়া গ্রামের মিস্ত্রি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন প্রবীর মিত্রে দাবি, দোকান বন্ধ করে রাত ১২টার দিকে সে বাড়ি ফেরেন। রাতের খাবার শেষে নিজ কক্ষে শুয়ে পড়েন। এসময় বসতঘরের পেছন থেকে ৭/৮ জনের সংঘবদ্ধ একদল দুর্বৃত্ত ঘরে প্রবেশ করে পরিবারে সবাইকে জিম্মি করে। তার মুখে স্প্রে করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে ঘরের মালামাল তছনছ করে। তাকে ও তার বাবাকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা কৃষক পুলিন মিত্রের মরদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার ছেলেকে অচেতন অবস্থায় নিজ শয়ন কক্ষে পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহত কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনার এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় অধিকতর তদন্তে মাঠে নেমেছেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার সৌমিত্র সিনহা বলেন, হাসপাতালে নিহতের ছেলেকে ভর্তির পর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সে সুস্থ। তার শরীরে কোনও আঘাতের আলামত পাওয়া যায়নি।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী বলেন, নিহত কৃষকের মরদেহ তার বসতঘর থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা র্যাব এর গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশি অধিকতর তদন্ত চলছে। তদন্তের সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

