ধনকুবের বিল গেটসের কন্যা ফিবি গেটসকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। তার ফ্যাশন টেক স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ নিয়ে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের দেওয়া বিস্ফোরক তথ্যে বিপাকে পড়েছেন তিনি। কোডিং ও প্রযুক্তি খাতে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে এখন জোরালো প্রশ্ন উঠছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউ ইয়র্ক পোস্টকে স্ট্যানফোর্ডের এক সহপাঠী বলেন, ফিবি হিউম্যান বায়োলজিতে স্নাতক করেছেন। সেই ডিগ্রির জন্য অ্যাডভান্সড কোডিং ক্লাসের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এমনকি কম্পিউটার সায়েন্সের কোনো আনুষ্ঠানিক কোর্সও তিনি করেননি। সূত্রের ভাষ্য, কম্পিউটার সায়েন্স কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে হয়তো কিছু ক্লাস করে থাকতে পারেন। কিন্তু সেগুলো মূলত জীববিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রিক হওয়ার কথা, যদি তিনি আদৌ করে থাকেন।
ফিবি চাইলেই হঠাৎ করে অ্যাডভান্সড কোডিং ক্লাসে বসতে পারতেন না। তার আগে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক কোর্স শেষ করতে হতো। নিয়মিত পড়াশোনার সঙ্গে সেগুলো মিলিয়ে নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। বিশেষ করে তিনি এক বছর আগেই স্নাতক শেষ করেছেন। তবে ‘অ্যাপ্লায়েড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ও উদ্যোক্তা বিষয়ক একটি ক্লাস তিনি করেছিলেন। সেই ক্লাস থেকেই মূলত ‘ফিয়া’র ধারণা তৈরি হয়।
২৩ বছর বয়সী ফিবি স্ট্যানফোর্ডের রুমমেট ২৫ বছর বয়সী সোফিয়া কিয়ানির সঙ্গে মিলে এই ডিজিটাল পার্সোনাল শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টার্টআপটি গড়ে তোলেন। কিন্তু সহপাঠীদের মধ্যে ফিবিকে দক্ষ কোডার হিসেবে কেউ চিনতেন না। স্টার্টআপের পরিকল্পনা ঘোষণার সময় কম্পিউটার সায়েন্সের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাকি সরাসরি হেসে উঠেছিলেন।
কিয়ানির প্রতিনিধিও জানিয়েছেন, তিনিও স্ট্যানফোর্ডে কম্পিউটার সায়েন্সের কোনো প্রথাগত ক্লাস করেননি। তার ‘সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড সোসাইটি’ ডিগ্রির কোর্সগুলো থেকে কুকির মতো বিষয় বোঝার কথাও নয়, এমন কটাক্ষও করা হয়েছে।
এদিকে স্টার্টআপটিতে ‘কুকি স্টাফিং’-এর অভিযোগ উঠেছে। ফাঁস হওয়া স্ল্যাক বার্তায় দেখা যায়, কিয়ানি প্রকৌশলীদের সঙ্গে এই পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং কুকিগুলো ‘ড্রপ’ করে রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। এক বার্তায় তিনি বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে, এই কুকিগুলো ক্রমাগত ড্রপ করে যাওয়ার জন্য আমরা যা করতে পারি, তা দারুণ হবে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিয়ার ‘অটো ড্রপ’ ফিচারের কারণে কোম্পানি সম্ভবত এমন সব কেনাকাটার ওপরও কমিশন নিয়েছে, যেখানে তারা আসলে কোনো ক্রেতাকে পাঠায়নি। প্রথমে কোম্পানি এটিকে সফটওয়্যার বাগ বলে দাবি করেছিল। কিন্তু নতুন প্রতিবেদন ও ফাঁস হওয়া বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফিচারটি কয়েক মাস ধরে চালু ছিল।
কুকি স্টাফিং হলো এমন একটি পদ্ধতি, যাতে মনে হয় কোনো কোম্পানি ক্রেতাকে রিটেইলারের কাছে পাঠিয়েছে, অথচ বাস্তবে তা করেনি। এভাবে অন্যায্য কমিশন নেওয়া সম্ভব।
ফিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফিচারটি ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিক্রিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, জুলাই মাসে ফিচারগুলো বন্ধ করার পর কোম্পানির গড় দৈনিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার থেকে কমে ১০ থেকে ২৮ হাজার ডলারের মধ্যে নেমে আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিবি ও কিয়ানির বিরুদ্ধে কুকি স্টাফিং অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা কম। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেওয়ানি মামলা ও বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন তারা। দুজনেই ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের একটি বিলাসবহুল পেন্টহাউসে থাকেন।
পেজ সিক্সের পক্ষ থেকে স্ট্যানফোর্ড কর্তৃপক্ষ ও ফিবি গেটসের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

