বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৫

বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো সংকট একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়; ধৈর্য ধরে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে ধীরে ধীরে সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ, বিশেষ করে ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অনেকেই বর্তমানে বিদ্যুতের সংকটে ভুগছেন। এই সংকটের পেছনে আগের সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপ দায়ী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এ বিদ্যুৎ সমস্যার পেছনে রয়েছে স্বৈরাচার সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপ। তাদের অপরিকল্পিত পরিকল্পনার কারণেই আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।’

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনে আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে যখন সংকট চলছে, তখন যেকোনো সংকট মোকাবিলায় আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা গ্রহণ করে ধীরে ধীরে এগোতে হবে।’

তবে বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখছি, এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায়, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।’

রাজপথে বিশৃঙ্খলা হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন খাতে সংকটাপন্ন পরিস্থিতি পেয়েছে। তার ভাষায়, আগের সরকার দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ প্রতিটি ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থা থেকে দেশকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশ শাসন করেও আগের সরকার জনগণের প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ করেনি। তার দাবি, যারা আগে দেশের শাসনভার দখল করে রেখেছিল, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না এবং জোর করে ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। এ কারণেই তারা জনগণের জন্য কাজ করেনি।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান।

 

 
ইত্তেফাক/এসএ