রাস্তা প্রশস্ত করতে প্রতিবেশীর ১৩ গাছ কাটার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০৭

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ব্যক্তিগত চলাচলের রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর অনুমতি ছাড়াই ১৩টি ফলজ ও কাঠগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান মিয়া দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের ময়নাল দারোগার বাড়িতে গিয়ে গাছ কাটার বিষয়টি জানা যায়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি ঢাকায় অবস্থানকালে প্রতিবেশী মিজানুর রহমান ও আব্দুর রাজ্জাক রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য তার জায়গায় থাকা ১৩টি গাছ কেটে ফেলেন। এর মধ্যে ছয়টি ফলন্ত নারিকেল গাছ ও একটি সুপারি গাছ রয়েছে। তার দাবি, কোনো অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো কাটা হয়েছে।

শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘আমি ঢাকায় থাকি। আমার অনুপস্থিতিতে এবং অনুমতি ছাড়াই জোর করে ১৩টি ফলজ ও কাঠের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব গাছ আমার বাবা লাগিয়েছিলেন। গাছগুলোর সঙ্গে তার স্মৃতি জড়িয়ে ছিল। দুটি পরিবারের ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য এভাবে গাছ কেটে ফেলার প্রতিবাদে থানায় অভিযোগ করেছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি অসুস্থ। রাস্তা প্রশস্ত করার বিষয়ে শাহজাহানের সঙ্গে কথা বলতে ঢাকায় তার বাসায় গিয়েছিলাম। তিনি রাস্তার জন্য জায়গা দিতে রাজি হননি। পরে তার ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার ঘটনায় আমার ছেলেরা তার কাছে ক্ষমা চেয়েছে।’

অপর প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের চলাচলের রাস্তাটি ৫০-৬০ বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তা প্রশস্ত করার বিষয়ে শাহজাহানের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। পরে তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বললে তিনি অনুমতি দেন। তবে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দিতে চেয়েছি।’

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম জারু বলেন, রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত রাস্তা বন্ধ করার সুযোগ নেই—এমন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি গাছ কাটার জন্য এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে শাহজাহান রাস্তার জন্য জমি দিতে রাজি নন বলে তিনি শুনেছেন।

বড়শালঘর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘শাহজাহান মিয়ার বাড়ির পেছনে থাকা দুই পরিবারের চলাচলের জন্য রাস্তাটি প্রয়োজন। তবে জমির মালিককে না জানিয়ে জোর করে এতগুলো গাছ কাটা ঠিক হয়নি। পরে বৈঠকে গাছ কাটার ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও এখন তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।’

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সড়ক প্রশস্তকরণকে কেন্দ্র করে গাছ কাটার ঘটনাটি পারিবারিক ও চাচাতো ভাইদের মধ্যকার বিষয়। স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন। সেখানে সমাধান না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা প্রশস্ত করার প্রয়োজন থাকলেও জমির মালিকের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়টি আইনগতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

 
ইত্তেফাক/এমএএম