প্রযুক্তির ব্যবহারে জুলাইয়ে এপিবিএনের উল্লেখযোগ্য সাফল্য

জনগণকে দ্রুত ও কার্যকর সেবা দিতে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে জোর

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৩৪

তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণকে দ্রুত ও কার্যকর সেবা দিতে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই ২০২৬ মাসে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানসহ সাইবার অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন মামলার আসামি গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।

এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখা থেকে পাওয়া তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তার ভিত্তিতে বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে জুলাইয়ে ৮৪৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া ৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়।

চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ৯১০ কেজি কসমেটিকস, ১৮৭টি শাড়ি/থ্রি-পিস, দুটি মোবাইল/ল্যাপটপ, ৩২২ কেজি সামুদ্রিক কাঁকড়া, দুটি এফডিএমএন কার্ড, ২৩৬ কেজি খাদ্যদ্রব্যসহ আরও ৪১১ কেজি বিভিন্ন ধরনের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের আওতায় চারটি ফেসবুক আইডি ও তিনটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি ফেক আইডিসংক্রান্ত অভিযোগের সমাধান করা হয়। প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৩টি সিম ও একটি ফেসবুক আইডি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারকের কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার ২৬০ টাকা, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৪৮টি টি-শার্ট এবং একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দুটি সাইবার বুলিংসংক্রান্ত সমস্যারও সমাধান করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সারাদেশে ৫০৮ জনকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ হাজার ৪২১টি ইয়াবা, ১ দশমিক ১৮ কেজি গাঁজা, ৩২ লিটার মদ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৮৫ কার্টন সিগারেট, ৭২টি ভেপ সিগারেট ও ৭২টি বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক বিক্রির ৬৭ হাজার ১৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ১০টি মামলা দায়ের করে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অস্ত্রবিরোধী অভিযানে দুটি ওয়ানশুটার গান, ১৬ রাউন্ড গুলি, একটি দেশীয় ধারালো দা/হাসুয়া ও একটি দেশীয় লোহার দা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জুলাই মাসে ৩৩১টি মামলা দায়ের করে ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বিএসটিআই ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অভিযানে আরও ৩১ লাখ ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়েছে ৩৬ জনকে।

বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ জন এবং এজাহারনামীয় ১৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় দুজন, অপহরণ মামলায় তিনজন ও ধর্ষণ মামলায় দুজনসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ১৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এপিবিএনের বিভিন্ন অভিযানে ১৫ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২১টি যানবাহন আটক করা হয়। এ সময় ৮৪ হাজার টাকা বাংলাদেশি মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়েছে।

জুলাই মাসে এপিবিএনের ৮, ১৪ ও ১৬ ইউনিটের মাধ্যমে মোট ৩১টি জিআর/সিআর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের পুলিশ সুপার (ট্রেনিং, ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আসমা বেগম রিটা বলেন, ‘এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সেবা আরও সম্প্রসারণে এপিবিএন অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে অপরাধ দমন, দ্রুত সেবা প্রদান ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।’

ইত্তেফাক/এমএএম