ট্রুথ সোশ্যালে লাখ ডলারের বিশেষ সুবিধা বিক্রি, মামলার মুখে ট্রাম্প

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩৪

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নতুন একটি বিশেষ সেবা চালু করায় আইনি জটিলতায় পড়েছেন তিনি। এই সেবার মাধ্যমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ এক লাখ ডলার ফি দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি, শুল্ক নীতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আগাম তথ্য পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বুধবার (১২আগস্ট) বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই সংবাদ ও অধিকার সংস্থা ‘দ্য ইন্টারসেপ্ট’ ও ‘ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন’ নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে।

মামলাকারীরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের সরকারি ও নীতিগত ঘোষণা অর্থের বিনিময়ে আগেভাগে বিক্রি করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং দুর্নীতিমূলক। ‘ট্রুথ এপিআই’ নামের এই সেবাটি গত ১ আগস্ট চালু হয়। এর মাধ্যমে বড় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা সাধারণ মানুষের চেয়ে কয়েক সেকেন্ড আগেই ট্রাম্পের ঘোষণা জানতে পারছেন। এই সামান্য সময়ের ব্যবধান শেয়ারবাজার ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ধনী বিনিয়োগকারীরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন, যা বাজারের স্বাভাবিক ভারসাম্য ও স্বচ্ছতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বাদীপক্ষের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক শুল্ক নীতি বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর প্রথম ঘোষণা ট্রুথ সোশ্যালেই দিয়ে থাকেন। এসব খবর মুহূর্তের মধ্যে শেয়ার ও পুঁজিবাজারে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এ ধরনের সরকারি তথ্য আগেভাগে বিক্রি করে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ ট্রাম্প ও তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ট্রুথ সোশ্যালের মূল প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের (টিএমটিজি) প্রধান শেয়ারহোল্ডার তিনি নিজেই।

ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা শেঠ স্টার্ন বলেছেন, একজন প্রেসিডেন্ট নিজের বার্তা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করছেন, এটা নজিরবিহীন দুর্নীতি। অন্যদিকে দ্য ইন্টারসেপ্টের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা ডেভিড ব্র্যালো মন্তব্য করেছেন, রাষ্ট্রপ্রধান সরকারি বিজ্ঞপ্তির আগাম তথ্য বিক্রি করছেন, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার মূলনীতির পরিপন্থী।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ট্রাম্প মিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছু বামপন্থী কর্মী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলা করেছে। তাদের লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করা। কোম্পানিটি আরও দাবি করেছে, অনেক সামাজিক মাধ্যমই এ ধরনের বাণিজ্যিক সেবা দিয়ে থাকে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

ইত্তেফাক/এবিএস