মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের (বাচ্চু রাজাকার) করা আপিল গ্রহণ করা হবে কি না, এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন ঠিক করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই দিন নির্ধারণ করেন। আদালতে আজ আপিলকারীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ তথা প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানির জন্য ১৭ আগস্ট দিন ঠিক করেন আপিল বিভাগ।
তারও আগে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় করা আপিলে আবুল কালাম আযাদ বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত চান।
আবুল কালাম আযাদ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য (রোকন)। পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। স্বাধীনতার ৪১ বছর পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় এটিই ছিল প্রথম রায়।
তার বিরুদ্ধে এ-সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠার আগে আবুল কালাম আযাদ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বেশি পরিচিতি পেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করার অভিযোগ আনে।
রায় ঘোষণার দীর্ঘদিন পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। জানা যায়, তিনি আত্মসমর্পণ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার শর্তে। এর আগে তার সাজা স্থগিত করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। এর ধারাবাহিকতায় তিনি আত্মসমর্পণ করেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল তার আপিলের জন্য নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।

