মানদণ্ডে সমস্যা, আরামকোর এলএনজিবাহী জাহাজ ফেরত পাঠাচ্ছে পেট্রোবাংলা

বিকল্প কার্গো পাঠাবে সৌদি আরামকো

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:২৭

নির্ধারিত কারিগরি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সৌদি আরামকোর সরবরাহ করা একটি এলএনজিবাহী (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) জাহাজ থেকে গ্যাস খালাস করেনি পেট্রোবাংলা। ‘আলহামরা’ নামের জাহাজটিকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যাখ্যাত এই চালানের পরিবর্তে বিকল্প একটি কার্গো পাঠাবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো।

লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘আলহামরা’ প্রায় ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে গত ১১ আগস্ট মধ্যরাতে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে পৌঁছায়। তবে নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত ও টার্মিনালে ভেড়ানোর উপযুক্ততা নিয়ে সমস্যা থাকায় জাহাজটি থেকে এলএনজি খালাস করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

২৯ বছর বয়সী ‘আলহামরা’ ১৯৯৭ সালে নির্মিত একটি ‘মস-টাইপ’ এলএনজি ক্যারিয়ার। জাহাজটির ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ঘনমিটার। ২৯০ মিটার দীর্ঘ ও ৪৮ মিটার প্রশস্ত জাহাজটির ড্রাফট ১১ দশমিক ৩ মিটার। এতে গোলাকার ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি পরিবহন করা হয়।

প্রয়োজনীয় সংযোগ না দেওয়ায় জাহাজটি সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান নেয়।

পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) দীন মোহাম্মদ বলেন, গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি জাহাজটি। এ কারণে ওই কার্গো গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, প্রত্যাখ্যাত চালানের পরিবর্তে নতুন একটি কার্গোর মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহ করা হবে। তাঁর ভাষ্য, জাহাজটি ফিরে গেছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে নতুন কার্গো পাঠাবে।

তবে জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি-গ্লোবালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক নুরুল আলমের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি জানান, ‘আলহামরা’ তখনো মহেশখালীতে অবস্থান করছিল।

নুরুল আলম বলেন, জাহাজটি থেকে এলএনজি খালাস না করে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে তাঁদের কাছে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এ ধরনের নির্দেশনা এলে নিয়ম মেনে জাহাজটি ফেরত পাঠানো হবে।

একটি কার্গো গ্রহণ না করায় দেশে এলএনজি সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক দীন মোহাম্মদ বলেন, অন্যান্য কার্গো আসার প্রক্রিয়ায় থাকায় এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

তিনি বলেন, এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নিয়মিতভাবে কার্গো কেনা ও সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) এলএনজি গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারিগরি ও নিরাপত্তা শর্ত রয়েছে। কোনো জাহাজ টার্মিনালে ভেড়ানো ও গ্যাস খালাসের আগে এসব শর্ত পূরণ করছে কি না, তা যাচাই করা হয়।

এ ক্ষেত্রে ‘আলহামরা’ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে না পারায় কার্গো গ্রহণ করা হয়নি। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, প্রত্যাখ্যাত চালানের জায়গায় দ্রুত বিকল্প একটি জাহাজে এলএনজি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য নির্ধারিত কার্গোর মাধ্যমেও দেশে এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

ইত্তেফাক/এমএএম