এবার শুভেন্দুকে ১০ দিনের আলটিমেটাম দিল ককরোচরা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০০:৫৩

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে রাজ্য সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। একই সঙ্গে বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে রাজনৈতিক দলটি।

সোমবার দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ইন্দাসের করিশুণ্ডা গ্রামে নিহত জনাফ মাফিকের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে গত ১৩ আগস্ট নিজ বাড়িতে মাফিক হামলার শিকার হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার রাতে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ১০ দিনের সময় দিচ্ছি। এই মেয়াদের মধ্যে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠাতে হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবার কোনো সরকারি ক্ষতিপূরণ চায় না। এর পরিবর্তে মাফিকের ২৫ বছর বয়সী ছেলে আবদুল হাফিজ তাঁর বাবার স্মরণে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি পূরণ ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে জেলা প্রশাসন ঘেরাওসহ রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতের স্ত্রী হাসিনা বেগমের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কথা বলা হয়েছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতিমধ্যে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা গেছে, নিহতের ছেলে আবদুল হাফিজ সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো তদারকি করতে গেলে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিরোধ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিরোধের জেরেই মাফিকের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন বিজেপি নেতা-কর্মী ছিলেন বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ সোমবার ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এই হামলার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেন। তিনি রাজ্য সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে দলীয় বা সাংগঠনিক কোনো সম্পর্ক নেই।

নিহত জনাফ মাফিক হামলার পর প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ আগস্ট বর্ধমান মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইত্তেফাক/এনএন