ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনার সমালোচনা করে প্রথম প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছিলেন সংস্থাটির সিনিয়র নির্বাহী কেভিন লামুর। এবার তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’।
ফিফার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ইনফান্তিনোর সমালোচনা করা প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুরের সঙ্গে সংস্থাটির ‘কাজের সম্পর্কের’ অবসান হয়েছে।
তবে লামুরকে বরখাস্তের কারণ সম্পর্কে ফিফার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলো আয়োজনের স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ফাঁস করেছিল ‘দ্য টাইমস।’ পরে তুমুল সমালোচনার মুখে পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা। তবে পরিকল্পনাটি ফাঁস হওয়ার পর গত ৩১ জুলাই বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) কাছে বিস্ফোরক বিবৃতিটি প্রকাশ করেন লামুর।
৪৬ বছর বয়সী লামুর অভিযোগ করেছিলেন, ইনফান্তিনো কর্মীদের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছেন। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও বেশি তহবিল সংগ্রহের প্রচেষ্টায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অতীতে উয়েফায় ইনফান্তিনোর সঙ্গে কাজ করা লামুর ফিফা সভাপতির প্রতি ইঙ্গিত করে সরাসরি বলেন, ‘এটি একজন মানুষের প্রকল্প।’ পাশাপাশি লামুর এটাও বলেছিলেন, ‘এই প্রকল্প কেবল বন্ধই করা উচিত নয়... বরং ফুটবল প্রশাসনে শীর্ষ নেতাদের সঠিক প্রশ্নগুলো নিজেদের কাছে করার এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’
লামুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এমন বিবৃতির কারণে তাকে ব্যক্তিগতভাগে ভুগতে হতে পারে। ফরাসি এই কর্মকর্তার ভাষায়, ‘এর অর্থ যদি হয় আমি চাকরি হারাচ্ছি, তবে তাই হোক। আমি সিদ্ধান্তটি বুঝব এবং সম্মান জানাব।’
ফিফার এক মুখপাত্র বিবৃতিতে নিশ্চিত করেন, ‘ফিফা এবং ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে কেভিন লামুরের মধ্যে কাজের সম্পর্কের অবসান ঘটেছে। কেভিনের দুই বছরের সেবার জন্য ফিফা তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য তার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করছে। এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হবে না।’
ফিফা মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোমের পাঠানো মেইলের মাধ্যমে লামুরের বিদায়ের বিষয়টি জানানো হয় ফিফা কর্মীদের। ফিফার সহসভাপতিরা ও ফিফা কাউন্সিলের সদস্যদের কাছে পাঠানো গ্রাফস্ট্রোমের আরেকটি পৃথক মেইল দেখেছে ‘দ্য টাইমস।’ সেই মেইলে গ্রাফস্ট্রোম লেখেন, ‘ফিফা এবং আমাদের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
২০২৪ সালের নভেম্বরে ফিফায় যোগ দেন লামুর। তার বিদায়ের আগে গত জুলাইয়ে একই বিষয় নিয়ে ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করেন।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন প্রত্যাহার করেছে স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এসএফএ)। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপসহ ফিফার অন্যান্য টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তুমুল সমালোচনার কারণে এই পরিকল্পনা পরে বাতিল করা হলেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার অধীন ফেডারেশনগুলো সোচ্চার হয়ে ওঠে।
আগামী বছর ফিফা কংগ্রেসে সভাপতি পদে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচন ঠেকাতে এরই মধ্যে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ওয়েলসসহ কয়েকটি ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশন সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এবার তাদের সঙ্গে যোগ দিল স্কটল্যান্ড।
এসএফএর প্রধান নির্বাহী ইয়ান ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘স্কটিশ এফ এ জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ভোট দেবে না।’
তিনি আরও জানান, তাদের এই অবস্থান উয়েফার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এ অবস্থান থেকে তারা সরে আসবে না।

